নেত্রকোনার মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরী, আটপাড়া এবং কলমাকান্দা উপজেলাসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি হাওর উপজেলায় শুষ্ক মৌসুমে জনগণের চলাচলের জন্য পাকা সড়ক ও সেতু নির্মাণের জন্য সরকার ব্যবস্থা নিলেও দ্রুত উন্নয়ন হচ্ছে না। এমনিতেই হাওরবাসী বছরের সাত মাস পানির সঙ্গে লড়াই করে চলাচল করে থাকেন। অথচ অর্থনৈতিকভাবেও এ উপজেলাগুলো এলাকার জনগণের আয়-রোজগারের জন্য গুরুত্ব বহন করে। মাছের জন্য বিখ্যাত এই উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার আজও কোনো উন্নয়ন হয়নি। এ হাওরগুলোর সবচেয়ে সমস্যা হয় বর্ষাকালে। এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাতায়াতের জন্য নৌযান ছাড়া আর কিছুই নেই। একমাত্র নৌযানই তাদের ভরসা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা ঝড়-বাদলে চলাচল করে থাকেন। বর্ষায় যাতায়াতের অসুবিধার জন্য প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার একেবারে কম। পিতামাতা নৌকাডুবির ভয়ে ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠান না। যে সমস্ত ইঞ্জিনচালিত ট্রলার চলাচল করে সেগুলোরও কোনো লাইসেন্স নেই। এছাড়া এ ট্রলারগুলো শুধু সামনের দিকে যেতে পারে, পিছন দিকে যেতে পারে না। আর তখনই হয় দুর্ঘটনা। এক ট্রলারের সঙ্গে অন্য ট্রলারের সংঘর্ষ লেগে গেলে ট্রলার ডুবে যায়। এ ধরনের ঘটনা ঘটছে নিত্য। কিন্তু কেউ তা দেখছে না। হাওরে কত সংখ্যক ট্রলার চলে তারও কোনো পরিসংখ্যান প্রশাসনের কাছে নেই। সরকার ট্রলারগুলো থেকে রাজস্ব আদায়ও করতে পারছে না। এলাকাবাসী এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনসহ জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। খালিয়াজুরী থেকে নেত্রকোনায় প্রায় নিত্য আসা-যাওয়া করেন তাদের মধ্যে মহসিন মিয়া এবং বর্ষা সরকার বলেন, আবহাওয়া খারাপ থাকে, প্রচণ্ড ঢেউয়ের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে তাদের চলতে হয়।
নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম বলেন, বর্ষাকালে হাওরে চলাচলের একমাত্র যানবাহন হচ্ছে ট্রলার। এর কোনো বিকল্প নেই। তবে ট্রলারগুলো যাতে বেআইনিভাবে চলতে না পারে এবং ভাড়া বেশি নিতে না পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান।