ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশের এলএনজি টার্মিনালে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কারণে সৃষ্ট গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। সংসদকে দেশের সব আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সংকট উত্তরণে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর জোর দেন।
বর্তমান সংকটকে পুঁজি করে বিরোধী দলগুলোর লং মার্চ কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের দুর্ভোগের সুযোগ নিয়ে বা অযথা উসকানি দিয়ে কোনো অপচেষ্টা চালানো সমীচীন নয়। লং মার্চ করে যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান হতো, তবে সরকার নিজেই সবার আগে লং মার্চের আয়োজন করত।
বিরোধী দলকেও সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগকে কাজে না লাগিয়ে সংকট উত্তরণে সবার একসঙ্গে সরকারের পাশে থাকা উচিত। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে প্রাণ হারানো ১৪০০ শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ হাজার মানুষের ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিকে উসকানিমূলক আচরণে রূপ দিলে পরাজিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী চক্র ছাড়া আর কেউ লাভবান হবে না।
তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী সরকার দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনের কোনো চেষ্টাই করেনি, বরং বিশেষ কোনো দেশকে লাভবান করতে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের অংশ থেকে গ্যাস কূপ খনন করা থেকে বিরত থাকা হয়। ফলে দেশ সম্পূর্ণরূপে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। কিন্তু বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১০-১২ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ায় তেল-গ্যাস আমদানিতে বড় বাধা তৈরি হয়। এর ওপর দেশের দুটি এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটিতে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে সৃষ্ট দুর্ঘটনায় সেটি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে পড়ায় সংকট চরম আকার ধারণ করে।
সংকট কাটিয়ে ওঠার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার ইতোমধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সংকট পুরোপুরি দূর হবে। ভবিষ্যতে জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা স্থায়ীভাবে কমাতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় পরিসরে কাজ শুরু করার কথা জানান তিনি।
এছাড়া বিএনপি সরকারের অতীত ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের আমলেই সত্তর দশকের শেষ দিকে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে এবং নব্বইয়ের দশকের শুরুতে দেশীয় সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে শিক্ষা ও অর্থনীতিতে অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল। অতীতের সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান সরকার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সব অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।