এবার সমর্থন প্রত্যাহার করে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ফ্রান্স

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনে এবার সমর্থন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্স। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ফ্রেঞ্চ ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফএফ) নির্বাহী কমিটি সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত নেয়।

ফ্রান্সের অবস্থান পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে চলমান বিরোধিতা আরও জোরালো হলো। গত জুনেই ইনফান্তিনোকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছিল দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। সে সময় ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনোই ছিলেন একমাত্র ঘোষিত প্রার্থী।

তবে পরবর্তী সময়ে ফিফার প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্বে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশীদার করার পরিকল্পনা সামনে এলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্বের ২০ শতাংশ বিক্রির প্রস্তাবটি সদস্য দেশ ও সংশ্লিষ্ট মহলে সমালোচনার জন্ম দেয়। শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি বাতিল করা হয়।

এফএফএফ সভাপতি ফিলিপ দিয়ালো ফ্রান্সের অবস্থান বদলের পেছনে ফিফার পরিচালনব্যবস্থায় আস্থার সংকটকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘ফিফা সভাপতির ওপর যে আস্থা রাখা হয়েছিল, তা ভেঙে গেছে। বিশ্ব ফুটবল কীভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি, সেটির সঙ্গে এখন যেভাবে তা পরিচালিত হচ্ছে, তার আর মিল নেই।’

ইনফান্তিনোর বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে ফিফার সদস্য ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে যথেষ্ট আলোচনা ও তথ্য বিনিময় না হওয়ার বিষয়টিও প্রশ্ন তুলেছে ফ্রান্স। এফএফএফের মতে, বিশ্ব ফুটবলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত স্বচ্ছতা ও সম্মিলিত আলোচনার বাইরে নেওয়া উচিত নয়।

এদিকে ফিফার পরিচালনব্যবস্থায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে ফ্রেঞ্চ ফেডারেশন। এ জন্য কনফেডারেশন, জাতীয় ফুটবল সংস্থা, খেলোয়াড়, সমর্থক এবং সুশাসন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করবে তারা। এর লক্ষ্য হিসেবে স্বচ্ছতা বাড়ানো, আস্থা পুনঃস্থাপন এবং ফিফার স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

দিয়ালো বলেন, পরিবর্তন আনতে শুধু সমালোচনা করলেই হবে না, বিকল্প প্রস্তাবও দিতে হবে। তার মতে, উয়েফার উচিত পরবর্তী ফিফা নেতৃত্বের জন্য একটি কার্যকর কর্মসূচি তৈরি করা এবং যথাসময়ে এমন একজন প্রার্থীকে সামনে আনা, যিনি ইনফান্তিনোকে পরাজিত করতে পারবেন।

ফ্রান্সের আগে ইংল্যান্ড, ইতালি, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসসহ কয়েকটি ইউরোপীয় ফুটবল ফেডারেশনও ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। উয়েফার পাশাপাশি এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) ও কনকাকাফও ফিফার নেতৃত্বে পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে দক্ষিণ আমেরিকার কনমেবল ও আফ্রিকার সিএএফ এখনো ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন ধরে রেখেছে।

ইনফান্তিনো অবশ্য পুনর্নির্বাচনের দৌড়ে রয়েছেন। আগামী ১৮ মার্চ মরক্কোর রাবাতে ফিফা সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। প্রার্থিতা জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর ২০২৬। ফলে নির্বাচনের আগে তার বিরোধী পক্ষ কতটা সংগঠিত হতে পারে এবং কার্যকর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড় করাতে পারে কি না, সেটিই এখন বড় আলোচনার বিষয়।