প্রিন্সেস ডায়ানার বহুল আলোচিত ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ বা ‘প্রতিশোধের পোশাক’ এবার নিলামে উঠতে যাচ্ছে। আগামী ডিসেম্বর বিখ্যাত নিলামকারী প্রতিষ্ঠান সদবি’স পোশাকটি বিক্রির জন্য তুলবে। এর আগে চলতি মাসে লন্ডনে প্রদর্শনীর পর পোশাকটি হংকং, জেনেভা ও নিউইয়র্কে নেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত নিউইয়র্কেই অনুষ্ঠিত হবে নিলাম।
১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বরের এক সন্ধ্যায় ডায়ানাকে এই কালো পোশাকে দেখা যায়। শরীরের সঙ্গে আঁটসাঁট, কাঁধখোলা পোশাকটি তার পরনের অন্যান্য পোশাকের তুলনায় বেশ ব্যতিক্রমী ছিল। বিশেষ করে পোশাকটি পরার সময়ের ঘটনাপ্রবাহের কারণে এটি পরে ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ নামে পরিচিতি পায়।
নিলামে পোশাকটির দাম ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ২ লাখ ২০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৮৩ লাখ থেকে ৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
ডায়ানার স্বামী ছিলেন প্রিন্স চার্লস, বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের রাজা। তার কারণেই ওই পোশাকের নাম হয়েছিল ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’। কারণ, যে সন্ধ্যায় ডায়ানা পোশাকটি পরেছিলেন, সেদিনই চার্লস তার পরকীয়ার বিষয়টি টেলিভিশনে প্রকাশ করতে যাচ্ছিলেন।
রিভেঞ্জ ড্রেস নিয়ে মানুষের আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। পোশাকটি এর আগেও একবার নিলামে বিক্রি হয়েছিল। ১৯৯৭ সালে ডায়ানা জীবিত থাকতেই পোশাকটি বিক্রি করেন এবং সেই অর্থ দাতব্য কাজে দেন। সে সময় পোশাকটির দাম উঠেছিল ৩৯ হাজার ৯৮ পাউন্ড, যা বর্তমান মূল্যে প্রায় ১ লাখ পাউন্ডের সমান। পরে যে পরিবার এটি কিনেছিল, এত দিন তাদের কাছেই পোশাকটি সংরক্ষিত ছিল।
‘রিভেঞ্জ ড্রেস’-এর নকশা করেছিলেন ডিজাইনার ক্রিস্টিনা স্ট্যামবোলিয়ান। ২০২২ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ওই সন্ধ্যায় ডায়ানার একটি সাদা গাউন পরার কথা ছিল। কিন্তু স্বামীর ওপর রাগের কারণে শেষ মুহূর্তে তিনি সেই পোশাক বাদ দিয়ে কালো পোশাকটি বেছে নেন। সেদিন তিনি উজ্জ্বল লাল নেইল পলিশও পরেছিলেন, যা আগে তাকে এমনভাবে দেখা যায়নি।
ডায়ানা ছিলেন ফ্যাশনসচেতন হিসেবে পরিচিত। ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট প্যারিসে গাড়ি দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হলেও তার পোশাক ও ফ্যাশন-রুচি এখনো আলোচিত। নতুন প্রজন্মের কাছেও তার স্টাইল অনুপ্রেরণার বিষয় হয়ে আছে।
২০১৩ সালে মার্কিন সংগীতশিল্পী রিয়ানা ফ্যাশনবিষয়ক সাময়িকী গ্লামারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডায়ানার ফ্যাশনবোধের প্রশংসা করেছিলেন। তার ভাষায়, ডায়ানার প্রতিটি সাজই ছিল দুর্দান্ত এবং পোশাক বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন ‘একজন গ্যাংস্টার’।