মৃত খালা শাশুড়িকে দেখতে যাওয়ার পথে বাসের চাপায় সাদিয়া আক্তার (২৬) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ইজিবাইকচালকসহ আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর বাসচালক কাউসারকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পর মতলব-গৌরীপুর পেন্নাই সড়কে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে মতলব-গৌরীপুর পেন্নাই সড়কের নাগদা বড়বাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সাদিয়া আক্তার উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নের ঘিলাতলী গ্রামের গাজী বাড়ির বাসিন্দা। তার স্বামী ইসমাইল হোসেন সৌদি আরবপ্রবাসী। তাদের চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতরা হলেন—নায়েরগাঁও এলাকার ইজিবাইকচালক রোমান হোসেন (৪৫), ঘিলাতলী গ্রামের খোরশেদা বেগম (৫৮), জিলানী (২৮) ও পারভীন (৪০)। তাদের মধ্যে খোরশেদা বেগম, জিলানী ও পারভীন নিহত সাদিয়ার স্বজন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজন মো. ইয়াছিন মিয়া বলেন, তার জেঠাতো ভাই রহুল আমিনের মা রাজিয়া (৫০) শুক্রবার রাত ৭টার দিকে অসুস্থতাজনিত কারণে মারা যান। শনিবার সকাল ৮টায় তার জানাজা ও দাফনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘সকাল ৬টার দিকে তারা আমাদের বাড়ির সামনে এলে বিপরীত দিক থেকে আসা জৈনপুর পরিবহনের একটি বাস তাদের ইজিবাইককে চাপা দেয়। এতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে মতলব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।’
এদিকে দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা জৈনপুর পরিবহনের বাসচালক কাউসারকে আটক করে বড়বাড়ি মসজিদসংলগ্ন কাছারি ঘরে রাখেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মতলব দক্ষিণ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেন তাকে আটক করেন এবং বাসটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যান। বাসচালক কাউসারের বাড়ি পৌরসভার ঢাকিরগাঁও এলাকায়।
মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বাসচালককে আটক করা হয়েছে এবং বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।