ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে রেসিং করতে গিয়ে তরুণের মৃত্যু, ফেলে পালাল বন্ধুরা

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৪

মাদারীপুরের শিবচরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে অন্য বাইকারদের সঙ্গে গতির প্রতিযোগিতায় (রেসিং) অংশ নিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় সাকিবুল হাসান (১৯) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে অন্য বাইকাররা পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক্সপ্রেসওয়ের শিবচর হাইওয়ে থানা-সংলগ্ন বাচামারা এলাকার ঢাকাগামী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সাকিবুল হাসান মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া মৌহালী এলাকার তরিকুল ইসলামের ছেলে।

জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মানিকগঞ্জ থেকে ১১টি মোটরসাইকেলে করে বন্ধুদের সঙ্গে ফরিদপুর হয়ে ভাঙ্গা চৌরাস্তা এলাকায় আসেন সাকিবুল। এ সময় ফরিদপুর থেকে আরও ৯ জন বাইকার তাদের সঙ্গে যুক্ত হন। ভাঙ্গা থেকে পদ্মা সেতু পর্যন্ত মোটরসাইকেল রেস করার কথা ছিল তাদের।

শিবচরের আড়িয়াল খাঁ সেতু পার হয়ে দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় সাকিবুলের মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক্সপ্রেসওয়ের রেলিংয়ে ধাক্কা খায়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই সাকিবুলের মৃত্যু হয়। এ সময় তার বন্ধুরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে দ্রুত চলে যান বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে শিবচর হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

সাকিবুলের বান্ধবী আরোহী আক্তার বলেন, ‘আমরা মানিকগঞ্জ থেকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট হয়ে ফরিদপুর আসি। সেখান থেকে আরও ৯ জন আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়। ভাঙ্গায় এলে আমিসহ আরও এক বান্ধবীকে রেখে তারা বাইক রেসিংয়ে যায়। পরে খবর পাই, সাকিব দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। আমি ভাঙ্গা থেকে ঘটনাস্থলে এসে দেখি সাকিব মারা গেছে। রেসিংয়ে থাকা অন্যরা কেউ এগিয়ে আসেনি। দুর্ঘটনা দেখেই তারা চলে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওরা (সাকিব ও তার বন্ধুরা) প্রায়ই বাইক রেস করত। এভাবেই ফেসবুকে অন্যদের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। একসঙ্গে রেসিং করতে গিয়ে সাকিব পড়ে গিয়ে মারা যায়। ওর বাইকার বন্ধুরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখেই পালিয়ে গেছে।’

এ বিষয়ে শিবচর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন বলেন, একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ দেয়নি।

ইত্তেফাক/এএইচপি