সাবরেজিস্ট্রার বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন বন্ধে ঢাকা শহরে প্রথমবারের মতো লটারি প্রথা চালুর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এসময় সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয় দেশের অন্যতম ‘প্রশ্নবোধক ডিপার্টমেন্ট’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিতকরণসংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, সাবরেজিস্ট্রার বিভাগ বাংলাদেশের অন্যতম ‘প্রশ্নবোধক ডিপার্টমেন্ট’। বিশেষ করে ঢাকায় পোস্টিং নিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের কথা শুনে এসেছেন তিনি।
সাবরেজিস্ট্রারদের বদলি ও পদায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রথমবারের মতো ঢাকা শহরে সাবরেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে লটারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, লটারি পদ্ধতি চালুর পর সাবরেজিস্ট্রারদের যেখানে যেখানে অনিয়ম রয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিচারব্যবস্থা মেরামতের কাজ চলছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক ও সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের মতো কয়েকজন বিচারক অর্থনৈতিকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত ছিলেন না। তবে তারা ‘বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি’ করেছেন। এর ফলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও নির্বাচনব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ শাসনামলের প্রতি ইঙ্গিত করে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। আমরা সেইটা মেরামতের কাজ করছি। সেই মেরামতের কার্যক্রম প্রক্রিয়ায় একটু সময় লাগবে, সেই সময়টা আমরা আশা করি পাব আপনাদের কাছ থেকে। তার আগে আমাদের প্রতি আস্থা এবং বিশ্বাস রাখার অনুরোধ করছি।’
সরকারের মুখ্য উদ্দেশ্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী অতীতে নির্যাতনের শিকার হলেও প্রতিশোধের পথে না যাওয়ার কথা বলেছেন। সরকারের নীতিও প্রতিশোধপরায়ণ না হওয়া।
এ সময় বাক্স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার মতপ্রকাশ, কথা বলা ও বিবেকের স্বাধীনতা চায়। একই সঙ্গে হলুদ সাংবাদিকতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের চরিত্র হননের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের দাবিও বিভিন্ন দিক থেকে আসছে।
সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ সংশোধনের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আইনটি যথেষ্ট নয় মনে হওয়ায় সংশোধনের জন্য মন্ত্রিসভায় একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। মানুষের বাক্স্বাধীনতার সঙ্গে বিষয়টি জড়িত থাকায় প্রধানমন্ত্রী সেটি আরও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি সাব-কমিটিতে পাঠান। পরে সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে জনপরামর্শের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এ ছাড়া রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, এগুলো কঠোর হাতে দমন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মাদকের বিরুদ্ধে যেমন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তেমনি রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও নজর দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সেই পথে বিএনপির কোনো নেতা যদি বাধা হয়ে দাঁড়ায়, প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন আছে, সেটিকেও আমরা বিবেচনায় রাখব না।’
নিজ এলাকার একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করছিলেন। এ সময় আইনমন্ত্রী প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন। পরে প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়ে ওই নেতাকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে প্রশ্রয় দিতে চাই না।’