দেশে সেই অন্ধকার, দুঃসময়, দুর্দিন যেন না আসে: রিজভী

দেশে অতীতের মতো অন্ধকার ও দুঃসময় যাতে আবার ফিরে না আসে, সে বিষয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদনগর ইউনিয়নের ভোরবাজার এলাকায় ওমরিয়া ফারুকিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে যুবদল কর্মী মোহাম্মদ হারুনুর রশিদের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী পুলিশ গুলি করে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের হত্যা করেছে। দেশে সেই অন্ধকার, দুঃসময় ও দুর্দিন যেন আবার না আসে, এটা মাথায় রেখে বিএনপির নেতা-কর্মীদের কাজ করতে হবে।’

হারুনুর রশিদের রাজনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও একটি আদর্শের জন্য হারুন নিজের জীবন দিয়েছেন। তার দাবি, হারুন ব্যাংকের অর্থ পাচার বা পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেলের অর্থ আত্মসাতের মতো কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে কথা বলতে গিয়ে তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।

ফেনী জেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার। এতে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদীন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম, নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিনসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

স্মরণসভা শেষে হারুনুর রশিদের পরিবারের সদস্যদের হাতে নতুন ঘরের চাবি ও আর্থিক সহায়তা তুলে দেন রিজভী। এ সময় তার স্ত্রী জোহরা আক্তার, বড় মেয়ে মাজেদা ও ছেলে তৌহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ফেনী শহরের শহীদ শহিদুল্লা কায়সার সড়কে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন হারুনুর রশিদ। সেদিন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের অবরোধ ও হরতালের সমর্থনে আয়োজিত মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। পরে পুলিশের সঙ্গে মিছিলকারীদের সংঘর্ষ হলে একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হন হারুন। তার বয়স হয়েছিল ৩৫ বছর।