কালীগঞ্জবাসীর বিনোদনকেন্দ্র রেল স্টেশন-ব্রিজ-সড়কসেতু!

গাজীপুরের কালীগঞ্জে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে কোনো বিনোদন কেন্দ্র বা পার্ক না থাকায় স্থানীয়রা অবসর বিনোদনের জন্য বেছে নিয়েছে আড়িখোলা রেলওয়ে স্টেশন, শীতলক্ষ্যা নদীর ওপরের ঘোড়াশাল ব্রিজ, টঙ্গী-কালীগঞ্জ-নরসিংদী বাইপাস সড়কের শহিদ ময়েজউদ্দিন সেতু, আজমতপুর-ইটাখোলা বাইপাস সড়কের চরসিন্দুর সেতু এবং বালু নদীর ওপরে উত্তরা-কালীগঞ্জ সড়কের তেরমুখ সেতু। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জন উন্নয়নমূলক এসব স্থাপনাগুলোতে স্থানীয়রা অবসর সময় কাটান। এলাকাবাসীর দাবি—এখানে বিনোদন কেন্দ্র বা পার্ক দ্রুত নির্মাণ করা হোক। স্থানীয় প্রশাসন বলছেন দ্রুতই নির্মাণ হবে বিনোদন স্পট।

এই উপজেলায় এক সময় দর্শকদের মাতিয়ে রাখত ‘আলোঘর’ ও ‘জামালপুর’ সিনেমা হল। বর্তমানে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের দুরবস্থার কারণে এসব সিনেমা হল ভেঙে এখানে নির্মাণ করা হয়েছে বহুতল মার্কেট। ফলে স্থানীয় সিনেমা প্রেমীরা হতাশা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। বালু নদীর ওপরে উত্তরা-কালীগঞ্জ সড়কের তেরমুখ সেতুতে বেড়াতে আসা ইউনাইটেড হাসপাতালের চাকরিজীবী সালাউদ্দিন রনি বলেন, কালীগঞ্জে পরিবার নিয়ে ঘুরে বেড়ানো বা অবসর কাটানোর মতো কোনো স্থান নেই। নেই বিনোদনের জন্য কোনো সিনেমা হল বা পাবলিক থিয়েটারও।

কালীগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই এ উপজেলায় বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণের জন্য উদ্যোগ নেয়নি কোনো সরকার। এমনকি প্রশাসনের সহায়তায় বেসরকারি পর্যায়েও ভালো পার্ক বা উদ্যান গড়ে ওঠেনি। এক যুগ আগে কালীগঞ্জে আলোঘর ও জামালপুর সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে স্থানীয়রা হলে বসে সিনেমা দেখা থেকেও বঞ্চিত।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শিবলী সাদিক বলেন, বিনোদন পার্ক বা কেন্দ্র নির্মাণের ব্যাপারে উপজেলার দুইটি স্থানের নাম উল্লেখ করে ইতিমধ্যে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কাছে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। সেগুলো অনুমোদন হলে স্থানীয়দের অবসর সময় কাটানো বা বিনোদনের কোনো সমস্যা হবে না।