সৌদি আরবে গিয়ে পাশবিক নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী

সোনারগাঁওয়ের একটি মেয়ে সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে গিয়ে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দরিদ্র পরিবারের সকলের মুখে হাসি ফুটাতে আড়াই মাস আগে সুদূর সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিল সোনারগাঁওয়ের সাদিপুরের সিংলাব গ্রামের ঐ মেয়েটি। স্বপ্ন ছিল গৃহকর্মীর কাজ করে স্বাবলম্বী হওয়ার। অভিযোগ উঠেছে, মেয়েটি সৌদি আরবে অব্যাহতভাবে পাশবিক যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। দ্রুত নির্যাতিত মেয়েকে দেশে ফিরিয়ে আনতে তার বাবা রবিবার দুপুরে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকারের মাধ্যমে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি লিখিত আবেদন করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হতদরিদ্র পরিবারের ঐ মেয়েটি বাংলাদেশ সরকার ও সৌদি আরব সরকারের সকল নিয়ম কানুন মেনে গৃহকর্মীর কাজ করার জন্য বৈধভাবে ভিসা নিয়ে চলতি বছরের ২ জুন সৌদি আরবের মদিনায় গমন করে। সেখানে যাওয়ার আগে দেশে সে গৃহকর্মীর কাজের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। মেয়েটির বাবার অভিযোগ, সৌদি আরবে একটি ধনী পরিবারে গৃহকর্মী হিসেবে যোগদান করার কিছুদিনের মধ্যেই তার মেয়ে তাকে মোবাইল ফোনে জানায় যে, ঐ পরিবারের গৃহকর্তা ও তার ছেলে প্রতিনিয়ত তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাচ্ছে। শারীরিক নির্যাতন চালানোর পাশাপাশি যৌন নির্যাতনও চালাচ্ছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় জ্বলন্ত সিগারেটের আগুন দিয়ে তারা তার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে ছ্যাঁকা দিয়েছে। এতে শরীরে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়ে সৌদি আরবে প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাচ্ছি।

সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, গৃহকর্মীর কাজে সৌদি আরব গমন করে সোনারগাঁওয়ের এক মেয়ে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক ব্যক্তি নির্যাতনের শিকার তার মেয়েকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে তার মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করেছেন। আবেদনটি দ্রুত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।