দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে প্রাণিসম্পদের চিকিৎসাসেবা। ১১টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ছয়টিই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। ফলে সীমিত জনবল দিয়ে খামারি ও কৃষকদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দপ্তরটিতে মোট ১১টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি পদে কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত থাকলেও ছয়টি পদে কোনো জনবল নেই। শূন্য পদগুলোর মধ্যে রয়েছে একজন উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (প্রাণিস্বাস্থ্য), একজন উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (এআই) এবং উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সম্প্রসারণ) পদে চারটির মধ্যে তিনটি। এ ছাড়া সম্প্রসারণের যে একজন কর্মরত ছিলেন, তিনিও চলতি বছরের মার্চ থেকে তিন বছরের প্রশিক্ষণে আলমডাঙ্গায় রয়েছেন। ফলে ওই পদেও কার্যত কোনো জনবল নেই। অফিস সহায়কের একটি পদও শূন্য রয়েছে।
ফুলবাড়ী উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস-মুরগি ও কোয়েলসহ ২ হাজার ৩৬৪টি খামার রয়েছে। এর মধ্যে গাভির খামার ৫০২টি, গরু মোটাতাজাকরণের খামার ৪৩৯টি, ছাগলের খামার ১ হাজার ১৩২টি, ভেড়ার ২০৫টি, হাঁসের ৩১টি, লেয়ার মুরগির দুটি, ব্রয়লার মুরগির ২৯টি, কবুতরের ২৩টি এবং কোয়েল পাখির একটি খামার রয়েছে।
এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তি পর্যায়েও গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া, হাঁস, মুরগি ও কুকুর পালন করা হয়। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় এসব প্রাণীর নিয়মিত চিকিৎসা ও পরামর্শসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খামারি ও সংশ্লিষ্টরা। ফলে অনেককে বাধ্য হয়ে স্থানীয়ভাবে অনভিজ্ঞ বা হাতুড়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে।
উপজেলার এক পোলট্রি খামারি জীবন প্রসাদ বলেন, উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালে গেলেও অনেক সময় প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যায় না। তাই খামারের মুরগি অসুস্থ হলে ওষুধের দোকানদারদের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ কিনে খাওয়াতে হয়।
মোক্তারপুর এলাকার গরু পালনকারী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অসুস্থ গরুকে হাসপাতালে নিতে পরিবহনসহ বিভিন্ন খরচ হয়। এ কারণে অনেকেই বাড়িতেই স্থানীয় চিকিৎসকের মাধ্যমে পশুর চিকিৎসা করান। এতে কোনো কোনো প্রাণী মারা যায়, আবার কিছু প্রাণী সুস্থও হয়ে ওঠে। গ্রাম পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া গেলে খামারিদের জন্য তা বেশি কার্যকর হবে বলে মনে করেন তিনি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সরোয়ার হাসান বলেন, জনবল সংকটের কারণে প্রাণিসম্পদের চিকিৎসাসেবা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে সীমিত জনবল দিয়েই খামারি ও কৃষকদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।