সামাজিক অবক্ষয় ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর

সামাজিক অবক্ষয় রোধ, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত জেলা পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা, জনকল্যাণমূলক ও সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমের তদারকি ও সমন্বয় সংক্রান্ত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। লক্ষ্মীপুর জেলার তদারকির দায়িত্ব পাওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সমন্বয় সভা।

সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা ও তরুণ প্রজন্ম প্রসঙ্গে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সামাজিক অবক্ষয় কোনো একক কারণে বা রাতারাতি ঘটে না। প্রযুক্তির আধুনিকায়নের সঙ্গে সঙ্গে সমাজকেও ইতিবাচক ধারায় খাপ খাওয়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে সব দায়ভার এককভাবে রাষ্ট্রের ওপর না চাপিয়ে অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের তাগিদ দেন তিনি। বিশেষ করে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে পরিবার ও সমাজকে একযোগে কাজ করার পরামর্শ দিয়ে তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের জনস্বার্থে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা প্রদানের নির্দেশ দেন।

সভায় উপস্থাপিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে লক্ষ্মীপুর জেলায় মোট ২০৮টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে; যার মধ্যে ২৬টি নারী ও শিশু নির্যাতন, ৬৬টি মাদক এবং ৯১টি অন্যান্য অপরাধের ঘটনা রয়েছে। একই মাসে বিভিন্ন থানায় ৮৫২টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল করা হলেও বর্তমানে জেলায় পেন্ডিং পরোয়ানায় রয়েছে ১২ হাজার ১৪টি। পরোয়ানা কার্যকরের গতি আরও বাড়াতে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। মাদকবিরোধী অভিযানের তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত ৯৮৭টি অভিযানে ২৪০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ১৭ হাজার ২৫০টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও প্রায় ২৯ কেজি (২৮.৮৫৯ কেজি) গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

পরিবেশ সুরক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে সভায় জানানো হয়, জেলা প্রশাসনের তদারকিতে গত এক বছরে ৬৫টি অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা হয়েছে এবং পরিবেশগত বিভিন্ন অপরাধে ১ কোটি ২৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ১৬টি মামলায় ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) কাটার বিরুদ্ধে ৫৯টি মামলায় ৩৩ লাখ ৮০ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া সভায় সড়কের উন্নয়নকাজের ভোগান্তি, পৌর এলাকায় অতিরিক্ত ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ডাম্প ট্রাকের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, নদী-খাল দূষণ ও দখল রোধ এবং নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হয়।

লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া ও সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। এ ছাড়া পুলিশ সুপার আবু তারেক, সিভিল সার্জনসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।