জিন্নাহর ছবি ছেঁড়াকে ‘মব’ উল্লেখ করে বিচার দাবি করলেন ডাকসু নেতারা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা এবং জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের ছবি টাঙানোর ঘটনাকে ‘মব’ আখ্যা দিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ডাকসু নেতৃবৃন্দ।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ দাবি জানান তারা। উপাচার্য চীন সফরে থাকায় তার অনুপস্থিতিতে সহ-উপাচার্যের কাছে এই আনুষ্ঠানিক ক্ষোভ ও দাবিনামা তুলে ধরা হয়।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা এস এম ফরহাদ জানান, সংগ্রহশালায় হামলা চালিয়ে ঐতিহাসিক সম্পদ ও ছবি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, উদ্বোধনের আগে ডাকসুর সভাপতি হিসেবে স্বয়ং উপাচার্য দুবার সংগ্রহশালাটি পরিদর্শন করেছিলেন। ফলে সেখানে কী ঐতিহাসিক প্রদর্শনী স্থান পাচ্ছে, তা প্রশাসনের পুরোপুরি জানা ছিল। ছবি সরানোর প্রয়োজন থাকলে প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে পারত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি রাখা নিয়ে প্রশাসনের কঠোর প্রতিক্রিয়ার জবাবে ফরহাদ বলেন, মূলত বাংলা ভাষাবিরোধী বক্তব্যের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরতেই জিন্নাহর সেই ছবি ও প্রাসঙ্গিক বক্তব্য প্রদর্শন করা হয়েছিল। এটি দেশের পাঠ্যবই এবং ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়েও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ঐতিহাসিক বিবরণ প্রকাশের দায়ে ডাকসুর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলে পাঠ্যবই প্রণয়নকারীদের বিরুদ্ধেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না।

উল্লেখ্য, গত রোববার ডাকসু সংগ্রহশালা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর স্বাধীনতা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকার কোনো ছবি না থাকা এবং বিপরীতে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি যুক্ত করা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। এর জের ধরে গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী সংগ্রহশালায় প্রবেশ করে জিন্নাহর ছবিগুলো ছিঁড়ে ফেলেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা সেখানে ১৯৮১ সালে বায়তুল মোকাররমের সামনে গোলাম আযমকে জুতাপেটার একটি ছবি টাঙিয়ে দেন।

বৈঠকে সংগ্রহশালার বিতর্ক ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় ভুক্তভোগী ও সহায়তাকারী ডাকসু প্রতিনিধিদের উল্টো শোকজ করার কারণ জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি শাহবাগ থানায় সাংবাদিক ও ডাকসু প্রতিনিধিদের ওপর হামলার বিচার দাবি করা হয়। ডাকসু নির্বাচনের বিষয়ে জিএস স্পষ্ট করেন যে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মেয়াদ তিন মাস বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও তারা কোনো কালক্ষেপণ চান না এবং অতি দ্রুত নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আহ্বান জানান।

ডাকসু নেতাদের দাবির বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী জানান, ফজলুল হক মুসলিম হলের বিষয়টি তদন্তাধীন এবং আসন্ন সিন্ডিকেট সভায় প্রতিবেদন উপস্থাপন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি টাঙানো ও পরবর্তীতে ছবি নষ্টের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ছাত্রসংগঠনগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হবে। শাহবাগে সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রশাসন কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে।