সংবাদপত্র ও বার্তা সংস্থার কর্মীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিতে নবম ওয়েজবোর্ডের গেজেট প্রকাশের ওপর হাইকোর্টের দেওয়া স্থিতাবস্থার আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর গতকাল সোমবার শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার আদেশের জন্য দিন ধার্য রেখেছেন।
গতকাল শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেন, মজুরি বোর্ডের সুপারিশ গেজেট আকারে প্রকাশের পর সেটা চ্যালেঞ্জ করে রিট করার সুযোগ ছিল। কিন্তু তার আগেই এ রিট করা হয়েছে। তিনি বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই সংবাদপত্র বন্ধ হয়ে গেছে। এই প্রকাশনা যাতে নির্বিঘ্নে চলতে পারে সেজন্যই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এখানে সরকারের ভূমিকা আম্পায়ারের মতো। সরকার সাংবাদিক ও মালিক উভয়পক্ষের স্বার্থই দেখবে। সাংবাদিকদের সঙ্গে মালিকপক্ষেরও স্বার্থ দেখা হচ্ছে।
রিটকারী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ এফ হাসান আরিফ বলেন, শ্রম বিধিমালার ১২৮ ধারা অনুযায়ী মজুরি বোর্ডের সুপারিশ নিয়ে প্রথম একটি গেজেট জারি হবে। এরপর ১৪ দিনের মধ্যে অংশীজনরা তার ওপর আপত্তি উত্থাপনের সুযোগ পাবে। আপত্তি উত্থাপনের পর সে বিষয়ে অংশগ্রহণমূলক (মালিক ও সাংবাদিক পক্ষের) শুনানি হবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ হবে। কিন্তু অংশীজনদের এই আপত্তি উত্থাপনের সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে নবম ওয়েজবোর্ডের রোয়েদাদ চূড়ান্ত করে সরকারের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে চূড়ান্ত গেজেট নোটিফিকেশনের জন্য। যেটা আইনত সঠিক হয়নি।
নবম ওয়েজবোর্ড চূড়ান্ত করার বিষয়ে মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে এই রিট করেন নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (নোয়াব) পক্ষে সংগঠনের সভাপতি দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান। ঐ রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ আগস্ট হাইকোর্ট নবম ওয়েজবোর্ডের গেজেট প্রকাশের ওপর দুই মাসের স্থিতাবস্থা জারি করে। এছাড়া শ্রম বিধিমালার ১২৮ বিধি অনুযায়ী অংশীজনদের আপত্তি উত্থাপনের সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে নবম ওয়েজবোর্ড চূড়ান্তকরণ এবং গেজেট জারির সুপারিশ করে তা সরকারের কাছে পাঠানো কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না-তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়।