জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাড়িতে ঢুকে স্কুলশিক্ষককে গুলির অভিযোগ 

ফরিদপুরের সদরপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দেশীয় অস্ত্রসহ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে স্কুলশিক্ষকের বাড়িতে ঢুকে তাকে গুলির অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের জাকেরডাঙ্গী গ্রামে শিক্ষক এম এ মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। তবে বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতেই আহত শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে (৪৫) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। মোস্তাফিজুর চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের জাকের ডাঙ্গী গ্রামে গ্রামের বাসিন্দা সফিউদ্দিন রহমানের ছেলে।

তিনি সদরপুরের আকটেরচর ইউনিয়নের শোন পাচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

স্থানীরা জানান, পাশের চরভদ্রাসন উপজেলার ব্যবসায়ী মো. আলতাফ শেখের সঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমানের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে গত ৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে মোস্তাফিজুর রহমানসহ কয়েকজন আলতাফ শেখের প্রায় দুই বিঘা জমির ৩৫০টি কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত বুধবার বিকেলে স্কুল শেষ করে নিজ মোটরসাইকেলে করে বাড়িতে ফেরেন শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান। বিকেল পাঁচটার দিকে ১৪ থেকে ১৫ জন যুবক মোটরসাইকেল নিয়ে মাথায় হেলমেট পরে তার বাড়িতে ঢোকেন। এসব যুবকের কারও হাতে হকিস্টিক, কারও হাতে রামদা, চাপাতি ও কারও হাতে কাঠের লাঠি ছিল। পাশাপাশি একজন যুবকের কাছে একটি পিস্তলও ছিল।

দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত দলটি শিক্ষকের বাড়িতে ঢুকেই কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার ডান পায়ে গুলি করেন। এরপর শিক্ষক মোস্তাফিজ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তারা বাড়িতে হাতের সামনে পাওয়া জিনিসপত্র ভাঙচুর করে চলে যান।

ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক মোস্তাফিজুরের বোন মোহসীনা আক্তার। তিনি নিজেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। তিনি বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আমার ভাইকে গুলি করা হয়েছে। এই সন্ত্রাসীরা স্কুল থেকেই আমার ভাইকে ফলো করে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে বাড়িতে আসার পর ঘরের মধ্যে ঢুকে গুলি করেছে।

মোস্তাফিজুরের বাবা সফিউদ্দীন রহমান বলেন, আমার পৈতৃক সম্পত্তি থেকে ২৬ শতাংশ জমি পাশের চরভদ্রাসন উপজেলার এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করি। কিন্তু ওই ব্যক্তি আমার ৪০ শতাংশ জমি বেশি দখল করে আছে। এটা নিয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের বিরোধ আছে। তারাই লোকজন নিয়ে এই হামলা করেছে।

চিকিৎসার কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত থানায় অভিযোগ করা হয়নি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমার ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে ব্যস্ত থাকার কারণে থানায় অভিযোগ নিয়ে যেতে পারিনি। চিকিৎসা শেষে আমরা থানায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এদিকে আলতাফ শেখের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মইদ হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে মোস্তাফিজুর রহমানের ডান পায়ে গুলি করেন বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষক পরিবারের সদস্যরা।

তবে এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে আলতাফ শেখের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মইদ (২৫) জানান, আমাদের দেখে পালাতে গিয়ে পড়ে যান শিক্ষক মোস্তাফিজুরের এবং পায়ে ক্ষত হয়। তিনি বলেন, তার পা আগে থেকেই ভাঙা ছিল।

এ ব্যাপারে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোনো চিকিৎসক আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে রোগীর ব্যবস্থাপত্রের ‘ইনজুরি নোট’ এ চিকিৎসক লিখেছেন, মোস্তাফিজুরের ডান পায়ে গুলির ক্ষত রয়েছে। যার ফলে হাঁটুর নিচের অংশের দুটি হাড় ভেঙে গেছে। এছাড়াও তীব্র আঘাতের কারণে ডান কাঁধের হাড়ের স্থানচ্যুতি হয়েছে। পাশাপাশি বুকে আঘাতের দাগ এবং ডান হাতে ফোলা ও ব্যথাও রয়েছে।

সদরপুর থানার ওসি আব্দুল আল মামুন শাহ্ বলেছেন, বাড়িতে ঢুকে শিক্ষকের বাড়িতে গুলির বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ এমন অভিযোগ নিয়ে থানায়ও আসেননি।