চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটা রোগীদের ভ্যাকসিন অ্যান্টিভেনম কেনার টাকা আত্মসাতের ঘটনায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট দৈনিক ইত্তেফাকের অনলাইনে ‘সরকারি হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীর ভ্যাকসিন কেনার পুরো টাকা গায়েব’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
মূলত ইত্তেফাকে প্রকাশিত সংবাদটিকে উল্লেখ করে আগামী ১০ কর্ম দিবসের মধ্যে এর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় তদন্ত কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ ফজলে রাব্বি স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
কমিটিতে সভাপতির দায়িত্বে আছেন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান এবং সদস্য সচিব হলে চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ফয়সাল। তাছাড়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. নাজমুল হাসানকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।
এদিকে, অভিযুক্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বদলির ৬ মাস পর (চলতি মাসের প্রথম দিন) লক্ষ্মীপুরের কমলনগর সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ছেংগারচর বাজার শাখারা অ্যাকাউন্টে ১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা জমা দেন। এই ঘটনাটিও গত ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে দৈনিক ইত্তেফাকের অনলাইনে প্রকাশিত হয়।
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সাপে কাটা রোগীদের জীবন রক্ষাকারী অ্যান্টিভেনম নামক গুরুত্বপূর্ণ এই ভ্যাকসিনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের বরাদ্দকৃত সেই ৩ লাখ টাকা একজন চিকিৎসকের আত্মসাত করার বিষয়টি খুবই নেক্কারজনক। দুর্নীতিগ্রস্থ এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, এই উপজেলায় সাপে কাটা ২ শতাধিক রোগী প্রতিবছর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু সাপে কাটা রোগীদের ভ্যাকসিন অ্যান্টিভেনম চাহিদার তুলনায় সরকারি বরাদ্দ খুবই সামান্য।
তদন্ত কমিটির সভাপতি ও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি যেহেতু তদন্তাধীন সে কারণে এ বিষয়ে আমি আগাম কিছু বলতে চাচ্ছি না।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রাজন কুমার দাশ বলেন, ঘটনাটি আমাদের জন্য বিব্রতকর ও লজ্জাজনক হলেও এখন আর আমার কিছু বলার নেই।

সরকারি হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীর ভ্যাকসিন কেনার পুরো টাকাই ‘গায়েব’