ভারতের তীব্র আপত্তি

যৌথ 'সীমান্ত কমিশন' চালু করল চীন ও পাকিস্তান

সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যৌথ জরিপ, বাণিজ্য প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে চীনের সঙ্গে 'যৌথ সীমান্ত কমিশন' চালুর ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। এ ঘোষণার পর বুধবার ভারত দাবি করেছে-এ কমিশনের কোনো 'আইনি ভিত্তি' নেই। এছাড়া সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে আইনত স্বীকৃত কোনো সীমান্ত নেই এবং ভারতের ভূখণ্ড জড়িত, এমন কোনো চুক্তিতে যাওয়ার অধিকার ইসলামাবাদের নেই বলেও দাবি করেছে নয়াদিল্লি।

ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের চার দিন পর এ ঘটনা ঘটল। ঐ বৈঠকে ভারত-চীন সম্পর্ক স্থিতিশীল করার অংশ হিসেবে দুই নেতা সীমান্ত ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। বুধবারই পাকিস্তান জানায়, তারা চীনের সঙ্গে এই সীমান্ত যৌথ কমিশনের কার্যক্রম শুরু করেছে। ইসলামাবাদ বলছে-এটি সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যৌথ সীমান্ত জরিপ, বাণিজ্য প্রবাহ ও জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতার কাঠামো।

ইসলামাবাদে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ কমিশনের উদ্বোধনী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে যৌথ ভাবে নেতৃত্ব দেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমহাপরিচালক লি ইয়া ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চীনবিষয়ক মহাপরিচালক বিলাল মাহমুদ চৌধুরী। এর কয়েক ঘণ্টা পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, এ বিষয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান 'স্পষ্ট'।

জয়সোয়াল বলেন, 'পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো সীমান্ত নেই। আমরা আইনি ভিত্তিহীন তথাকথিত এই যৌথ কমিশনকে প্রত্যাখ্যান করছি।' চীন ও পাকিস্তানের মধ্যকার যে সীমান্ত এলাকাকে ভারত তাদের কেন্দ্রশাসিত জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের অংশ বলে দাবি করে, ঐসব এলাকা নিয়ে কাজ করবে এই যৌথ কমিশন। ১৯৬৩ সালের এক চুক্তির আওতায় পাকিস্তান এ ভূখণ্ডের প্রায় ৫ হাজার ১৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকা চীনের কাছে হস্তান্তর করেছিল, যা ভারত মেনে নেয়নি।

জয়সোয়াল বলেন, 'আমরা কখনোই ১৯৬৩ সালের তথাকথিত 'চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তি'কে স্বীকৃতি দেয়নি। ধারাবাহিকভাবে আমরা একে বেআইনি ও বাতিল বলে দাবি করে আসছি।'