ডেজার্টের ওপর পিঁপড়া দিয়ে পরিবেশন করায় দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের একটি নামকরা ও বিলাসবহুল রেস্তোরাঁকে জরিমানা করা হয়েছে। রেস্তোরাঁ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ও এর প্রধান নির্বাহীকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দেশটির খাদ্যনিরাপত্তা আইনে পিঁপড়া খাবারের উপাদান হিসেবে অনুমোদিত নয়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
সিউলের বিখ্যাত রেস্তোরাঁ ‘ইভেট’-এর মালিককে খাদ্য পরিচ্ছন্নতা আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১৫ মিলিয়ন ওন (প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা) জরিমানা করেছেন স্থানীয় এক আদালত। পাশাপাশি রেস্তোরাঁ পরিচালনাকারী সংস্থাকেও ১০ মিলিয়ন ওন জরিমানা করা হয়েছে।
রেস্তোরাঁটির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ড থেকে শুকনো পিঁপড়া ডাকযোগে আমদানি করত এভেট। এরপর সেগুলো সিকহে দিয়ে তৈরি সরবের ওপর পরিবেশন করা হতো। সিকহে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় একটি মিষ্টি চালের পানীয়। একটি ডেজার্টে সাধারণত তিন থেকে পাঁচটি পিঁপড়া দেওয়া হতো।
সিউলের ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক লি সে-চ্যাং বলেন, ‘অপরাধটি হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে এসব ডেজার্ট বিক্রি করা হয়েছে। পাশাপাশি রেস্তোরাঁটি খাবারগুলো নিজেদের প্রচারের কাজেও ব্যবহার করেছে। এছাড়া পরীক্ষায় পিঁপড়াগুলোয় অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি ভারী ধাতুর উপস্থিতিও পাওয়া গেছে।’
রেস্তোরাঁ ও প্রধান নির্বাহী অভিযোগ স্বীকার করায় আদালত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছেন। প্রধান নির্বাহীর খাদ্যনিরাপত্তা আইনে আগের কোনো অপরাধের রেকর্ডও ছিল না।
রেস্তোরাঁটিতে আসা ভোজনরসিকদের অনলাইন রিভিউ এবং সেখানে পোস্ট করা ছবি দেখে প্রথম এ বিচিত্র কাণ্ড নজরে আসে খাদ্য ও ওষুধ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের। তদন্তে জানা যায়, একধরনের মিষ্টান্নের ১৫ পদ সাজাতে প্রায় চার বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ড থেকে বিপুল পিঁপড়া আমদানি করছিলেন রেস্তোরাঁটির মালিক। খাবারের টক স্বাদ বাড়াতে ও নান্দনিকতা ফুটিয়ে তুলতে এই দীর্ঘ সময়ে নির্দিষ্ট কিছু মিষ্টান্নে হাজার হাজার পিঁপড়া ব্যবহার করা হয়েছে।
রায়ে বিচারক বলেন, এ ঘটনা শুধু খাদ্যনীতিমালাই লঙ্ঘন করেনি, বরং গবেষণাগারে পরীক্ষার সময় পিঁপড়াগুলোর শরীরে ক্ষতিকারক ভারী ধাতুর মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। তাই এ অপরাধকে কোনোভাবেই হালকা করে দেখার সুযোগ নেই।
অভিযুক্ত রেস্তোরাঁমালিক অবশ্য আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই পিঁপড়া খাওয়ার প্রচলন থাকায় দক্ষিণ কোরিয়ায় যে এটি নিষিদ্ধ, তা তার জানা ছিলনা। তাছাড়া তাদের বিশেষ ১৫ পদের খাবারের মেনুর খুব ছোট একটি অংশে এ পিঁপড়া ব্যবহার করা হতো।
জানা যায়, দক্ষিণ কোরিয়ার আইনে খাবারের উপাদান হিসেবে ১০ ধরনের পোকামাকড় অনুমোদিত। এর মধ্যে রয়েছে ঘাসফড়িং, মিলওয়ার্ম ও রেশম পোকার পিউপা। পিঁপড়া সে অনুমোদিত তালিকায় নেই।
রায়টির বিরুদ্ধে উভয় পক্ষকে আপিল করার জন্য সাতদিন সময় রয়েছে।