দক্ষিণ কোরিয়ার আইনি ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ডিভোর্স সেটেলমেন্টের রায় দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। ভিডিও গেম জায়ান্ট স্মাইলগেটের প্রতিষ্ঠাতা কওন হিয়ক-বিনকে তার সাবেক স্ত্রী লি হোয়া-জিনকে ২ দশমিক ৫৫ ট্রিলিয়ন ওন (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা) মূল্যের সম্পদ হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্মাইলগেটের প্রায় ৩৫ শতাংশ শেয়ার এবং ৬৫ বিলিয়ন ওন নগদ অর্থ।
ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্পত্তির মালিক কওন হিয়ক-বিন দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম শীর্ষ ধনী। তিনি দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম ভিডিও গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্মাইলগেটের প্রতিষ্ঠাতা। আইনি প্রক্রিয়ার আগে কোম্পানির শতভাগ মালিকানা ছিল তার হাতে। আদালত রায়ে কোম্পানির প্রায় ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ওন মূল্যের ৩৫ শতাংশ শেয়ার লি হোয়া-জিনের নামে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে, সঙ্গে বাড়তি হিসেবে ৬৫ বিলিয়ন ওনের নগদ অর্থও।
এর আগে দেশটির প্রযুক্তি খাতের আরেক শীর্ষ ব্যবসায়ী এসকে গ্রুপের চেয়ারম্যান চে তায়ে-ওনকে তার সাবেক স্ত্রীকে ৯৪৪ বিলিয়ন ওন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তখন সেটিই ছিল দেশের সবচেয়ে বড় ডিভোর্স সেটেলমেন্ট। কিন্তু স্মাইলগেট প্রতিষ্ঠাতার এই রায় আগের রেকর্ডকে দ্বিগুণেরও বেশি ব্যবধানে ছাড়িয়ে গেছে।
বিচ্ছেদ আবেদনের সময় লি হোয়া-জিন মূল কোম্পানির ৫০ শতাংশ মালিকানা দাবি করেছিলেন। আদালতে তার আইনজীবীরা জোরালো যুক্তি দিয়ে বলেছেন, ২০০২ সালে স্মাইলগেট প্রতিষ্ঠার সময় লি সরাসরি অর্থায়ন ও প্রাথমিক সহায়তা দিয়েছিলেন। কওন ও লি ২০০১ সালে বিয়ে করেন এবং পরের বছরই কওন স্মাইলগেট গড়ে তোলেন। এই কোম্পানির বিশ্বজুড়ে সাড়া জাগানো কাজের মধ্যে রয়েছে ফার্স্ট-পার্সন শুটার গেম ‘ক্রসফায়ার’ এবং অ্যাকশন রোল-প্লেয়িং গেম ‘লস্ট আর্ক’।
আদালতে লি উল্লেখ করেন, ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি এক হাতে তাদের সন্তানদের লালন-পালন ও সংসারের পুরো দায়িত্ব সামলেছেন। অন্যদিকে লির সব দাবি অস্বীকার করে কওন জানিয়েছেন, কোম্পানিতে লির কোনো অর্থ বিনিয়োগ ছিল না এবং তিনি সেখানে কাজও করেননি। চলতি বছরের শুরুতে স্মাইলগেটের পক্ষ থেকেও বিবৃতিতে বলা হয়, কোম্পানির প্রতিষ্ঠাকালীন সমুদয় মূলধন কওন একাই জুগিয়েছিলেন।
এই আইনি জটিলতার মধ্যে কোম্পানির প্রধান শেয়ারহোল্ডারের কোনো ব্যক্তিগত বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি স্মাইলগেটের মুখপাত্র। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য চোসুন ডেইলি-তে প্রকাশিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমরা বরাবরের মতো আমাদের পেশাগত দায়িত্ব বিশ্বস্ততার সঙ্গে পালন করে যাব।
আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে উভয় পক্ষই উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাচ্ছেন। উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুলাইয়ে এসকে গ্রুপের চেয়ারম্যান চে তায়ে-ওনকে ৯৪৪ বিলিয়ন ওন দেওয়ার রায় দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তা সুপ্রিম কোর্টে বাতিল হয়ে যায়। সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করে যে, দম্পতির যৌথ সম্পদ হিসাব করার সময় ভুলক্রমে তা বাস্তব মূল্যের চেয়ে বেশি দেখানো হয়েছিল। ফলে মামলাটি পুনরায় পর্যালোচনার জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠায় সর্বোচ্চ আদালত।
সূত্র: বিবিসি

