অপ্রতীম হত্যা: তিন ‘ঘাতকের’ সঙ্গে মিলল সেই আইফোনও

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে আটক তিনজনই ‘ঘাতক’ বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। তারা হলেন— মো. তুহিন, শাহরিয়া আনাস ও মো. ফাহিম।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আটটার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সালমানপুর এলাকায় ‘ঘাতক’ তুহিনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অপ্রতীমের মায়ের আইফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রথমে তুহিন নামে এক তরুণকে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহিম ও আনাস নামে আরও দুইজনকে আটক করা হয়েছে। সন্দেহভাজন হিসেবে আটক তুহিন, আনাস ও ফাহিমই ঘাতক।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় জেলা পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।

আটকের আগে অপ্রতীমের মৃত্যুর খবরসংবলিত একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে ফেসবুকে পোস্ট দেন শাহরিয়া আনাস। সেখানে তিনি লেখেন, ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন। বাচ্চাদের কাছে দামী জিনিস, তার জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ। আল্লাহ তার মা, বাবাকে ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করুক।’

পোস্টে অপ্রতীমের সঙ্গে নিজের কথোপকথনের স্মৃতিও তুলে ধরেন আনাস। তিনি লেখেন, ‘মাঝেমধ্যে ছেলেটা আমাকে মেসেজ দিয়ে বলতো যে ভাই কই আছো ছবি তুলবো কয়েকটা। আসলে এগুলো ভেবে এখন খারাপই লাগতেছে।’

এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় অপ্রতীম। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পরে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতীমের মুঠোফোনের অবস্থান শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত হয়েছিল। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি।

অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ। ফুটেজে অপ্রতীমের সঙ্গে তুহিন নামে এক তরুণকে দেখা যায়।

পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাসকে আটক করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। সর্বশেষ ফাহিম আহমেদকেও আটক করা হয়।

অপ্রতীম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।

এদিকে অপ্রতীমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত ও দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন।

তারা ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন এবং দাবি পূরণ না হলে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এর আগে তিনজনকে আটকের পর কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জানিয়েছিলেন, অপ্রতীমের মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন তথ্য যাচাই ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আটকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং অন্যান্য আলামত যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।