অনুমতি পেলে কুবি ক্যাম্পাসের কবরস্থানে অপ্রতীমের দাফন

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:০১

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমকে (১৩) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই দাফন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাওয়া গেলে ক্যাম্পাসের নির্ধারিত স্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম বিদ্যুৎ।

তিনি বলেন, ‘তারা মা বাবার কোনো আপত্তি নেই কুবি ক্যাম্পাসে দাফন করার বিষয়ে। প্রশাসন যদি ক্যাম্পাসে কবরস্থানের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা দিতে পারে এবং অনুমতি দেয়, তাহলে তাকে সেখানে কবর দেওয়া হবে। আর তা যদি সম্ভব না হয় তাহলে আশেপাশের কোনো কবরস্থানেই তাকে দাফন করা হবে।’

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর তার মরদেহের সন্ধান মেলে। মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের সন্তান।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতীম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। সন্ধ্যার পর পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হয় এবং তার বাবা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। 

নিখোঁজের পর অপ্রতীমের মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের সন্ধান চেয়ে আকুতি জানান। তিনি জানান, ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং তাকে উদ্ধারে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পাশের একটি নির্জন স্থানে অপ্রতীমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় কয়েকজন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় তুহিন নামের এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশ কিছু ‘ক্লু’ পেয়েছে এবং তদন্ত চলছে। আটক ব্যক্তি ঘটনায় জড়িত কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

অপ্রতীমের সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটিও এখনও পাওয়া যায়নি। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

এদিকে, পরিবারের সম্মতি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে অপ্রতীমকে কুবি ক্যাম্পাসেই কবরস্থানে দাফনের করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও দাফনের স্থান-সময় পরে জানানো হবে।

ইত্তেফাক/এপি