রংপুরে চার খুন: ডিএনএ পরীক্ষার জন্য দুই আসামিকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনার প্রায় এক মাস পর গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের জন্য ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে। রোববার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী। 

সনাতন চক্রবর্তী বলেন, দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গভীর রাতে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকায় নেওয়া হবে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হবে। এ জন্য সোমবার তাদের ঢাকায় সিআইডি কার্যালয়ে নেওয়া হবে।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত ও নিহতদের নমুনার সঙ্গে দুই আসামির ডিএনএ মিলিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ঘটনাস্থলে আসামিদের উপস্থিতি ছিল কি না এবং কোনো আলামতের সঙ্গে তাদের জৈবিক সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে। এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্তে এরই মধ্যে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, জবানবন্দি ও বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনা করছে ডিবি। পাশাপাশি ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে দুই আসামির সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাড়ি থেকে জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও তাদের দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দুই দিন ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়া এবং বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় স্বজনেরা সেখানে গিয়ে তালাবদ্ধ ঘরের ভেতর মরদেহ দেখতে পান। পরে ফায়ার সার্ভিস ও মহানগর পুলিশ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত শেষে নগরীর দহিগঞ্জ শ্মশানে তাদের সৎকার করেন স্বজনেরা।