মাওলানা আব্দুল হালিম

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন হলে দেশের আইন-শৃঙ্খলা ভালো হবে

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৫৪

গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দলীয়করণ বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা–রংপুর লং মার্চের সমাপনী সমাবেশস্থল রংপুর জিলা স্কুল মাঠ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

আব্দুল হালিম বলেন, জনগণের স্বার্থ ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এগারো দলীয় ঐক্য লং মার্চ কর্মসূচি পালন করছে। তাদের দাবিগুলো কোনো একটি দলের নয়, বরং জনগণের দাবি।

তিনি বলেন, ‘আমরা যেসব দাবিতে লং মার্চ করছি, এটি জামায়াতের কোনো দাবি নয়, এটি জনগণের দাবি। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন হলে দেশের আইন-শৃঙ্খলা ভালো হবে, দলীয়করণ বন্ধ হবে, সুশাসন নিশ্চিত হবে।’

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা যে লক্ষ্য নিয়ে আত্মত্যাগ করেছে, সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেই লক্ষ্য পূরণ হবে।

তিস্তা নদীর পাড়ের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়েও কথা বলেন জামায়াতের রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক আব্দুল হালিম। তিনি বলেন, তিস্তাপাড়ের মানুষের স্বার্থ ও অধিকার বাস্তবায়নে তারা আন্দোলন করছেন। সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগী হলেও কোনো ‘পরোক্ষ শক্তির’ কারণে তা থেমে গেলে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, গণমানুষের দাবির এই আন্দোলনে রংপুরে চট্টগ্রামের চেয়েও বেশি মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেবে বলে আমরা আশা করছি।

এদিকে ১৯ সেপ্টেম্বরের ঢাকা–রংপুর লং মার্চ সামনে রেখে মঙ্গলবার সকালে রংপুর নগরীর শাপলা চত্বরে জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে লং মার্চ বাস্তবায়ন কমিটির বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কর্মসূচির প্রস্তুতি ও সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরে নেতৃবৃন্দ রংপুর জিলা স্কুল মাঠ পরিদর্শন করেন।

নেতারা জানান, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, গ্যাস-বিদ্যুৎ-তেলের সংকট নিরসন, দলীয়করণ ও দখলদারিত্ব বন্ধ, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি রোধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে এই লং মার্চ অনুষ্ঠিত হবে।

কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ এগারো দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের দাবি, উত্তরবঙ্গের ২২টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে জামায়াতের প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ায় রংপুরের কর্মসূচিতে চট্টগ্রামের তুলনায় বেশি মানুষের সমাগম হবে।

ইত্তেফাক/এসজেএস