ফরিদপুরের সদরপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মোস্তাফিজুর রহমান (৪৫) নামে এক শিক্ষকের ডান পায়ে গুলি করার অভিযোগ উঠেছিল। ঘটনার পর সাংবাদিকদের কাছে ভুক্তভোগীর বাবা গুলি করার অভিযোগ করলেও থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে গুলি করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে ভুক্তভোগীর বাবা মোহাম্মাদ শাফিউদ্দিন মৃধা সদরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগপত্রে মোস্তাফিজুর রহমানের পায়ে গুলি করার কোনো উল্লেখ নেই।
এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের জাকেরের ডাঙ্গী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পরে আহত মোস্তাফিজুর রহমানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মাদ শাফিউদ্দিন মৃধার ছেলে মোস্তাফিজুর মৃধার সঙ্গে তার চাচাতো ভাই মোজাহিদ মৃধার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ওই জমির কিছু অংশের সঙ্গে শেখ আলতাফ হোসেন সংশ্লিষ্ট থাকায় তার ছেলে আব্দুল্লাহ আল মুনিম বিষয়টি জানতে ঘটনাস্থলে যান বলে অভিযুক্ত পক্ষের দাবি।
এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে মোস্তাফিজুর রহমানসহ কয়েকজন আলতাফ হোসেনের প্রায় দুই বিঘা জমির ৩৫০টি কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠে। মূলত ওই ঘটনার পর দুই পক্ষের বিরোধ আরও তীব্র হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর সেই ঘটনার পর মোস্তাফিজুর রহমানের বাবা শাফিউদ্দিন মৃধা সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তার ছেলের ডান পায়ে গুলি করা হয়েছে। তবে পরে থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে গুলি করার বিষয়টি উল্লেখ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দেয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শনিবার রাতে মোহাম্মাদ শাফিউদ্দিন মৃধা বলেন, ‘আলতাফ গংরা আমাদের বাড়িতে দেশীয় ও আগ্নেয় অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে। আমি গুলি করতে দেখিনি। তবে ছেলের পায়ে ক্ষত দেখে মনে হয়েছিল, হয়তো গুলি করেছে।’
অভিযোগের বিষয়ে শেখ আলতাফ হোসেনের দাবি, তার ছেলে আব্দুল্লাহ আল মুইদকে ফাঁসানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মোস্তাফিজুর মৃধা ও মোজাহিদ মৃধার মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব রয়েছে এবং ঘটনার দিন তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই বিরোধের বিষয়টি শুনে আমার ছেলে ঘটনাস্থলে যায়। সেই ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আমাকে ও আমার মাধ্যমিক পড়ুয়া ছেলে আব্দুল্লাহ আল মুনিমকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
সদরপুর থানার ওসি আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, ভুক্তভোগীর বাবা মোহাম্মদ শফিউদ্দিন মৃধা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে ওই অভিযোগে গুলি করার বিষয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। ওই ঘটনার বিষয়গুলো তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।