এক নারীকে স্ত্রী দাবি করে দুই পুরুষের হাতাহাতি, লঙ্কাকাণ্ড

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৩৯

এক গৃহবধূ নিজের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসক দেখাতে এসেছিলেন। সঙ্গে ছিলেন তার স্বামী বলে দাবি করা এক প্রবাসী। খবর পেয়ে ওই নারীকে স্ত্রী দাবি করা আরেকজন সেখানে আসেন। এরপর বেধে যায় লঙ্কাকাণ্ড। দুই ব্যক্তিই ওই নারীকে স্ত্রী বলে দাবি করতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শেষ পর্যন্ত ছুটে আসে পুলিশ। 

এদিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দুই ব্যক্তির মধ্যে মধ্যে একদফা হাতাহাতি হয়ে যায়। পরে আসা ওই ভদ্রলোকের লোকবল বেশি থাকায় সেখানে প্রবাসী ব্যক্তিটিকে কিছু সময়ের জন্য আটকে রাখা হয়।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) নান্দাইল মডেল থানার ওসি মো. আজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরশহরের রোগনির্ণয় ও চিকিৎসাপাড়া হিসেবে খ্যাত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ পথে এই ঘটনার সূত্রপাত। বিকেল থেকে শুরু হয়ে যা চলে রাত পর্যন্ত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের সিংদই গ্রামের এক গৃহবধূ নান্দাইল শহরের রিতা প্যাথলজিতে আসেন চিকিৎসক দেখাতে। ওই সময় তার সঙ্গে ছিলেন পার্শ্ববর্তী ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার প্রবাসী আবু হানিফ। তিনি নিজেকে ওই গৃহবধূর স্বামী বলে পরিচয় দেন।

খবর পেয়ে ওই প্যাথলজিতে যান মো. শরীফ নামে এক ব্যক্তি। তিনিও নিজেকে ওই গৃহবধূর স্বামী দাবি করেন। গৃহবধূর সঙ্গে তার বিয়ের কাবিননামা দেখান। শরীফ তাঁর লোকজন নিয়ে প্রবাসী আবু হানিফকে আটক করেন। এসময় দুজনের মধ্যে এক দফা হাতাহাতি হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে রিতা প্যাথলজির একটি কক্ষে আবু হানিফকে আটকে রাখা হয়। ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ

শরীফ মিয়া জানান, তিনি বিয়ের পর চাকরি থেকে উপার্জিত সমুদয় অর্থ স্ত্রীকে দিয়েছেন। কিন্তু তার স্ত্রী এখন দাবি করছেন, তিনি নাকি আমাকে (শরীফ) তালাক দিয়েছেন। তালাকের পর সে নাকি বিয়ে করেছে। অথচ সে আমাকে তালাক দিলে তো আমি, আমার বাড়ির লোকজন বা গ্রামের লোকজনও জানতে পারতো। কেউ কিছু জানল না অথচ তালাকের মতো একটা বড় ঘটনা ঘটে গেল। তার স্ত্রী এখন অন্য এক পুরুষকে স্বামী বলে দাবি করছে। তিনি তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে ও তার উপার্জিত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেন।

তবে ওই গৃহবধূ ও তার বাবা আবদুল কাইয়ুম শরীফের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কাইয়ুম বলেন, আমার মেয়ে শরীফকে কোর্টের এফিডেভিটের মাধ্যমে তালাক দিয়েছে। সেই কাগজ শরীফের কাছেও পাঠানো হয়েছে। শরীফ কাগজ না পেয়ে থাকলে তার দায় আমার মেয়ে নেবে কেন? তাছাড়া তালাকের পর আমার মেয়ে অন্যত্র বিয়ে করে সংসার করছে। শরীফ এখন ঝামেলা পাকানোর চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে শরীফের বাবা দুলাল মিয়া বলেন, ওই নারী (পুত্রবধূ) আমার ছেলের কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এখন সে তালাকের কথা বলছে। আমার ছেলেকে ছাড়তে হলে সমুদয় অর্থ ফেরত দিতে হবে।

নান্দাইল মডেল থানার ওসি মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে প্রবেশের সড়কটিতে রোগীর প্রচুর আনাগোনা হয়ে থাকে। এ ঘটনা নিয়ে ওই এলাকায় যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে সেজন্য উভয়পক্ষকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি পারিবারিক হওয়ায় গৃহবধূকে তার বাবার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/এপি