তারপরও অপেক্ষায় ফরহাদ

২০০৮ সালের পর থেকে এক একবার জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচ খেলতে দীর্ঘকাল ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছে ফরহাদ রেজাকে। লম্বা লম্বা বিরতির পর হুট করে একটু সুযোগ পেয়েছেন। নিয়মিত হতে পারেননি। গত কিছুদিন ধরে আছেন জাতীয় দলের আশপাশে। কিন্তু মাঠে নামা বা মূলদলে ঠাঁই পাওয়া হচ্ছে না। তারপরও হতাশ নন ৩৩ বছর বয়সি ফরহাদ রেজা। বলছেন, তিনি অপেক্ষায় আছেন সুযোগ পেলে পারফরম করার জন্য।

২০০৬ সালে ফরহাদ রেজার জাতীয় দলে অভিষেক। ২০০৮ সাল পর্যন্ত মোটামুটি নিয়মিত খেলেছেন। এরপর থেকে শুরু হয় অপেক্ষা। তিন বছর বিরতি দিয়ে ২০১১ সালে একটা টি-টোয়েন্টি ও দুটো ওয়ানডেতে সুযোগ পেয়েছিলেন। ওয়ানডে এরপর আর খেলা হয়নি। তবে আরো তিন বছর পর ফিরে পাঁচটা টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন ২০১৪ সালে। পাঁচ বছর পর আবার সেই ফরহাদ রেজা এখন জাতীয় দলের আশপাশে আছেন বিশ্বকাপের আগে থেকে। মূলত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে গত মৌসুমের অস্বাভাবিক পারফরমেন্স তাকে নিয়ে এসেছে বিবেচনায়।

ফরহাদ বলছিলেন, তিনি দলে সুযোগ পাওয়া নিয়ে খুব চিন্তিত নন। তিনি নিজের কাজটা নিজে ঠিকমতো করে রাখতে চান, ‘আমার কাজগুলো ঠিকভাবে করার চেষ্টা করেছি। যেহেতু আমার কাজ ভালো কিছু করার। যখনই সুযোগ আসবে আমি যেন কাজে লাগাতে পারি সেই কারণে প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

তবে এই লম্বা বিরতিতেও ফিটনেস হারাননি ফরহাদ। এবারও ফিটনেস টেস্টে জাতীয় দলের চলমান খেলোয়াড়দের চেয়ে ভালো করেছেন। এই ফিটনেসের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার বলছিলেন, ‘দেখুন আমার ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, আমার শেষ চার পাঁচ বছর ধরে তুষারদা, জয় দুই জন কাজ করছে। ফিজিও এবং ট্রেইনার। যার ফলে আমি চার পাঁচ বছর ধরে ফিটনেসটি এভাবে রেখেছি। শুধু আমার না, আমার হিসেবে সবাই মোটামুটি ভালোই করেছে। তবে আরেকটু ভালো হতে পারত।’

এতো কিছুর পরও জাতীয় দলে নিয়মিত হতে পারছেন না। পারছেন না লাল সবুজ জার্সিটা গায়ে চাপাতে। এ নিয়ে ভেতরে ক্ষোভ থাকলেও ফরহাদ বলছিলেন, তিনি খেলার মধ্যে আছেন, এতেই খুশি। তবে এটাও বললেন, সুযোগ না পেলে নিজেকে প্রমাণের উপায় নেই, ‘আল্টিমেটলি ক্রিকেটে তো খেলছি তাই না? জাতীয় দলে না হোক, আমি তো ঘরোয়া ক্রিকেট এবং বিপিএল সব জায়গাতেই খেলছি। বিপিএলে অনেক টপ খেলোয়াড়রাই খেলছে। আসলে আমাকে তো সুযোগ দিতে হবে। নাহলে আপনি কিভাবে বুঝবেন যে আমি পারব। আমি যদি সুযোগই না পাই তাহলে আর কি হবে? আমাকে সুযোগ না দিলে তো আমি বলতে পারব না। আপনি কিভাবে বলবেন যে আমি পারব কি পারব না।’

ফরহাদ একটা বিষয় সাকিব আল হাসানের সঙ্গে আলাপ করতে গিয়ে বুঝেছেন—জাতীয় দলে থাকতে গেলে পারফরম করতে হবে। আর সেটাই করতে চান তিনি, ‘সাকিবের সঙ্গে আমার শেষ যে কথা হয়েছিল, ও বলেছিল এটা এমন একটি জায়গা যেখানে আপনি পারফরম করবেন ঠিক থাকবেন। পারফরম করবেন না তাহলে থাকবেন না। আমার মনে হয় আল্টিমেটলি আপনাকে এখানে পারফর্ম করতেই হবে। পারফর্ম করলে আপনি থাকবেন, না করলে আপনি চলে যাবেন।’