ছয় বছর পর জাতীয় দলের আয়নায় নিজের ছবিটা দেখছেন জহুরুল ইসলাম অমি। ২০১৩ সালে শেষবার জাতীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন তিনি।
সাত টেস্ট, ১৪ ওয়ানডে, ৩ টি-২০ তে শেষ হয়ে যেতে পারত অমির ক্যারিয়ার। নতুন করে তার ক্যারিয়ারে এসেছে আলোকচ্ছটা। আগামী মাসের হোম সিরিজের জন্য ঘোষিত বাংলাদেশের প্রাথমিক দলে আছেন অমি। তামিম ইকবাল না থাকায় টেস্ট ক্রিকেটে অমির সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সাদা পোশাকে একপ্রান্ত লম্বা সময় ব্যাট করা কাউকে অনেকদিন ধরেই খুঁজছে বাংলাদেশ।
গত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, ব্যাঙ্গালোরে গত মাসে বিসিবি একাদশের হয়ে অমির ব্যাটিং নতুন করে আশা জাগিয়েছে। আফগানদের বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্টের দলে এই ডানহাতি অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান সুযোগ পেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
বয়সের কোটা ৩২ ছুঁয়েছে। ১৩ দিন পরই ৩৩ এ পা দিবেন তিনি। পরিশ্রমী ক্রিকেটার অমি মনে করেন, বয়স কোনো বাধা হতে পারে না। ফর্ম ও ফিটনেসই বড়ো। এ দুটি ঠিক রাখতেই হবে।
এই বয়সেও বিসিবির পরিকল্পনায় থাকতে পেরে খুশি অমি। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘অবশ্যই এর জন্য আমি অনেক খুশি এবং আমার ব্যাচের যারা আছে তারাও অনেক খুশি হবে। কোনো সময় আশাহত হওয়া যাবে না। বয়স আসলে কোনো ব্যাপার নয়। আপনি যদি ফিটনেস ধরে রাখেন এবং পারফরম্যান্স ভালো করেন—এই দুটি যদি মিলে যায় তাহলে অবশ্যই বয়সটি কোনো বাধা হতে পারে না।’
বয়স ৩০ পার হলে ত্রিকেট আগের চেয়ে ভালো বোঝা যায় বলে মনে করেন অমি। তিনি বলেছেন, ‘ক্রিকেটারের বয়স ৩০ বছরের বেশি হয় তাহলে ভালো বুঝা যায়। কিন্তু আমাদের ঘাটতি হলো আমরা ফিটনেস নিয়ে খুব বেশি কাজ করি না। এই কারণে আমাদের পারফরম্যান্সটিও ভালো হয় না। আর পারফরম্যান্স ভালো হলে এই লেভেলে আসলে ফিটনেস অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।’
আফগানদের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজটা খেলবেন না তামিম। বিসিবির কাছে ছুটি চেয়েছেন তিনি। তার জায়গায় যে ডাক পাবে, তার জন্য এটি বড়ো সুযোগ হবে বলে ধারণা অমির। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আসলে তামিম অনেক বড়ো মানের খেলোয়াড়। তার ঘাটতি পূরণ করাটা কঠিন। তবে এরপরেও এটি বড়ো একটি সুযোগ সাদমান, ইমরুল, আমি, সৌম্য, যাদেরকে সুযোগ দিবে। টেস্ট সবসময় ক্রিকেটের বড়ো ফরম্যাট। এখানে ভালো পারফর্ম করা গেলে সব ফরম্যাটে পারফর্ম করা সহজ। আমি বলবো যে যেহেতু তামিম নেই, তাই যারা সুযোগ পাবে তাদের জন্য এটি একটি বড়ো সুযোগ।’
প্রাথমিক দল পেরিয়ে মূল দলে সুযোগ পাওয়ার আশায় আছেন অমি। সুযোগ পেলে নিজের সর্বোচ্চটা দিতে চান তিনি। অমি বলেছেন, ‘আসলে আমি চেষ্টা করছি দিন দিন আরো উন্নতি করার এবং ফিটনেস নিয়ে কাজ করার। বাকিটা নির্বাচকদের ওপরে। ওনাদের যদি প্রয়োজন হয় তাহলে আমাকে নিবে এবং আমি আমার সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ।’