হেডিংলিতে নেই স্টিভেন স্মিথ

স্টিভেন স্মিথ ফিট হয়ে ওঠার জন্য মরিয়া ছিলেন। চাইছিলেন, যে করেই হোক হেডিংলি টেস্টে খেলতে। কিন্তু, অজি ব্যাটসম্যানের আশা পূরণ হচ্ছে না। তৃতীয় টেস্টের আগে ফিট হয়ে উঠতে পারবেন না তিনি।

গেল রোববার তার গলার স্ক্যান করা হয়। সেই পরীক্ষার ফলাফল দেখে তাকে নিয়ে এ যাত্রায় আর ঝুঁকি নিতে নারাজ অস্ট্রেলিয়ার টিম ম্যানেজমেন্ট। অস্ট্রেলিয়া দলের কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার গতকাল মঙ্গলবার এই দুঃসংবাদ দিয়েছেন।

লর্ডস টেস্টের পঞ্চম দিন মাঠেই নামা হয়নি সাবেক অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথের। এর আগে চতুর্থ দিনে সেঞ্চুরির পথেই হাঁটছিলেন তিনি। কিন্তু, পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ইংলিশ পেসার জোফরা আর্চারের একটা মারাত্মক বাউন্সার। সেই আঘাতে স্মিথ যখন মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলেন তখন রান ৮০। ফিরে এসেছিল অকালে পরপারে পাড়ি জমানো ফিলিপ হিউজের স্মৃতিও। ঘটনাটি ঘটে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ৭৭তম ওভারে।

স্মিথ অবশ্য ড্রেসিংরুমে ফিরে শুশ্রূষা নিয়ে ফিরেছেন। শেষ অবধি সেঞ্চুরির দেখা পাননি তিনি। আউট হওয়ার আগে করেন ৯২ রান। ১৬১ বলের লড়াকু এ ইনিংসে ছিল ১৪টি চার। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থামে ২৫০ রানে গিয়ে।

এর পরদিন সকালে আর মাঠে নামাই হয়নি তার। তবে, লর্ডসের পঞ্চম দিনে ১০ জন নিয়ে খেলতে হয়নি অস্ট্রেলিয়াকে। টেস্ট ইতিহাসের প্রথম বদলি ক্রিকেটার হিসেবে গতকাল একাদশে রাখা হয়েছিল মার্নাস লাবুশেন। গত ১৯ জুলাই আইসিসি নতুন এক আইন জারি করে জানিয়েছে, মাথায় আঘাত পাওয়া ক্রিকেটারের বদলি নামানো যাবে। এ নিয়মে প্রথম সুবিধা পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া দল। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) জানিয়েছিল, ঘুমটা ভালো হলেও ওঠার পর থেকে একটু মাথা ব্যথার সঙ্গে ঝিমুনিও হচ্ছিল স্মিথের। তাই তাকে মাঠে নামানো হয়নি।

পঞ্চম দিন মাঠে না থাকতে পেরে আক্ষেপ ছিল না ৩০ বছর বয়সি স্মিথের। কিন্তু তিনি বড়ো দুঃসংবাদটা পেলেন গতকাল। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া তৃতীয় টেস্টে তিনি থাকছেন না।

বার্মিংহ্যামের প্রথম টেস্টটায় ২৫১ রানের বড়ো ব্যবধানে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। এর ফলে দুই ম্যাচ শেষে এখন টিম পেইনের দল ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে। তিন ইনিংস খেলে ৩৭৮ রান করেছেন স্মিথ। তাই, তার না থাকাটা অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড়ো একটা দুঃসংবাদ।

অস্ট্রেলিয়া দল এরই মধ্যে হেডিংলি পৌঁছে গেছে। গতকাল সকালে সেখানে অনুশীলনও হয় দলটির। স্মিথকেও মাঠে দেখা গেছে। তিনি অবশ্য কোনোরকম অনুশীলনে অংশ নেননি।