প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে জিপিই থেকে বড় অর্থায়ন চাইলেন ববি হাজ্জাজ

বাংলাদেশে প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশনের (জিপিই) কাছ থেকে চলমান শিক্ষা সংস্কার ও নতুন উদ্যোগে আরও বৃহত্তর অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা চেয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ইকোসক চেম্বারে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের (ইউএনজিএ৮১) সাইডলাইনে আয়োজিত জিপিই-এর উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন ‘মাল্টিপ্লাই পসিবিলিটি: এ নিউ এরা ফর এডুকেশন ফাইন্যান্সিং’-এ অংশ নিয়ে তিনি এ সহযোগিতার আহ্বান জানান।

জাতিসংঘে ইতালি ও নাইজেরিয়ার স্থায়ী মিশন এবং জিপিই যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘এখন শুধু শিশুদের বিদ্যালয়ে উপস্থিত করাই আমাদের লক্ষ্য নয়; বরং শ্রেণিকক্ষে তাদের প্রকৃত শিখনফল ও ভবিষ্যৎ কর্মদক্ষতা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল অগ্রাধিকার। এই লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ।’

সম্মেলনের সাইডলাইনে প্রতিমন্ত্রী জিপিই-এর ডেপুটি চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (উপ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) চার্লস নর্থের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়ন, বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষায় চলমান সংস্কার, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, শিক্ষক উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং এবং শিখনফল উন্নয়নে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রীর প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে জিপিই-এর ডেপুটি সিইও চার্লস নর্থ বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতের সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারণে ইতিবাচক আশ্বাস দেন। একইসাথে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারগুলো নিয়ে জিপিই এর সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী জিপিই-এর সিইও লরা ফ্রিজেন্টি ও ডেপুটি সিইও চার্লস নর্থকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রন জানান।

বাংলাদেশ সফরের মাধ্যমে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতের অগ্রাধিকার, চলমান সংস্কার কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো সরেজমিনে পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হবে বলে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ উল্লেখ করেন।

সম্মেলনে বিশ্বব্যাপী শিক্ষায় টেকসই অর্থায়ন বৃদ্ধি, উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদার এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের নতুন বিনিয়োগ ও প্রতিশ্রুতির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, শিক্ষামন্ত্রী, আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, সুশীল সমাজ, ফাউন্ডেশন এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ২০২৬ সালে জিপিই-এর কাছ থেকে ৯৮.৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অনুদান নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের বর্তমান অর্থায়ন আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এ উচ্চ পর্যায়ের আয়োজনে অংশ নেন।