যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উত্তেজনা বাড়াচ্ছে :রাশিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ‘সামরিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে’ বলে অভিযোগ করেছে রাশিয়া। তবে এ ব্যাপারে পালটা কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার কথা জানিয়েছে রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই রায়াবকভ।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে সোমবার জানানো হয়, আগের দিন যুক্তরাষ্ট্র একটি মাঝারি পাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলের মার্কিন নৌবাহিনী নিয়ন্ত্রিত সান নিকোলাস আইল্যান্ড থেকে এ ক্ষেপণাস্ত্র উেক্ষপণ করা হয়। একে ওয়াশিংটনের সামরিক সক্ষমতা জোরদারের উদ্যোগ মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসকে রায়াবকভ মঙ্গলবার বলেন, ‘পুরো বিষয়টিই দুঃখজনক। যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া পদক্ষেপ নিশ্চিতভাবেই সামরিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। তবে আমরা এ উসকানির পালটা কোনো পদক্ষেপ নেব না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের ব্যয়বহুল অস্ত্র দৌড়ে শামিল হতে দেব না।’

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ১৯৮৭ সালে করা ইন্টারমিডিয়েট রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস (আইএনএফ) চুক্তিতে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিষিদ্ধ ছিল। গত ২ আগস্ট চুক্তিটি থেকে একতরফাভাবে বেরিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগ ছিল, রাশিয়া চুক্তিটি মেনে চলছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রতিক্রিয়ায় রায়াবকভ বলেন, চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র উেক্ষপণ করা হলো। এর অর্থ চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে কাজ করে আসছিল।

যুক্তরাষ্ট্র রবিবার যে ক্ষেপণাস্ত্র উেক্ষপণ করে তা ছিল পরমাণু শক্তিসম্পন্ন টমাহুক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, যা আইএনএফ চুক্তির পর সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আইএনএফ চুক্তিতে ভূমিতে নিক্ষেপণযোগ্য প্রথাগত ও পরমাণু শক্তিসম্পন্ন সব ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিষিদ্ধ ছিল।