১২০০ বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পেয়েছে ডিএসসিসি

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বাগান গেট এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন। গতকাল বিশ্ব মশক দিবস উপলক্ষ্যে সকালে ঐ অভিযান পরিচালনা করেন মেয়র। ডিএসসিসি ১ হাজার ২০০ বাড়িতে ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী এডিস মশার লার্ভা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন মেয়র সাঈদ খোকন। নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম, বাংলাদেশ এ কর্মসূচির আয়োজন করে। কর্মসূচিতে সহযোগী হিসেবে ছিল ডিএসসিসি।

কর্মসূচিতে আরো বক্তব্য দেন কলামিস্ট ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম নাসির উদ্দিন,  ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডা. শফিকুল আলম, নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি অমিতোষ পাল, সাধারণ সম্পাদক মতিন আব্দুল্লাহ। ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. শরীফ আহমেদ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর জাহিদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সাঈদ খোকন বলেন, ইতিমধ্যে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে ৫৮ হাজার ৭৪৮ বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ২০০ বাড়িতে এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে। সেগুলো ধ্বংস করার পাশাপাশি বাড়ির মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে। এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ স্কাউটসের সদস্যরা ১ লাখ ১১ হাজার বাসাবাড়ি পরিদর্শন করে লার্ভা ধ্বংস করার বিষয়ে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছে। তিনি বলেন, মশার উত্সস্থল ধ্বংসে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ায় এডিস মশার বিস্তার ও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা কমতে শুরু করেছে। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং ইনস্টিটিউট ও ফজলে রাব্বী হল এলাকায় মশা নিধনে অভিযান চালানো হয়।

এদিকে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস নিশ্চিত করতে এ সময় বাগান গেটসহ হাসপাতাল চত্বর সংলগ্ন ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকানপাটও উচ্ছেদ করা হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে বুলডোজার চালিয়ে দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। অভিযান পরিচালনাকারীরা এতটাই তত্পর ছিলেন যে অবৈধ দোকানদারদের অনেকেই মালপত্র সরানোর সুযোগ পাননি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ফুটপাত দখলমুক্ত হয়। তবে অভিযান পরিচালনা শেষ করে মেয়র স্থান ত্যাগ করার কিছুক্ষণ পর ফের ফুটপাত দখল হতে থাকে। দুপুরে দেখা গেছে, অবৈধ দখলদারদের অনেকে নতুন করে দোকান সাজিয়ে বসেন। অন্যদিকে হাসপাতালের একপাশে যখন মশক নিধন কার্যক্রম চলছে, অন্যপাশেই দেখা যায় বিপরীত চিত্র। জরুরি বিভাগের পাশে পানির পাম্প ও বিদ্যুত্ সাব-স্টেশনের কাছে দেয়াল সংলগ্ন একটি গর্তে সন্ধান মেলে অজস্র মশার।