সাক্ষ্য আইনে অডিও, ভিডিও রেকর্ড অন্তর্ভুক্তি চায় দুদক

বিচারিক কার্যক্রমে ইলেকট্রনিক রেকর্ডকে দালিলিক সাক্ষ্য প্রমাণ হিসেবে গ্রহণের জন্য সাক্ষ্য আইনটি যুগোপযোগী করতে আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি পত্র গতকাল মঙ্গলবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব বরাবরে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, দেশের বিদ্যমান স্বাক্ষ্য আইনে ইলেকট্রনিক রেকর্ডকে আদালতে সাক্ষীসাবুদ বা দলিল হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ নেই। আদালতে সাক্ষীসাবুদ ব্যবহারের নীতি পদ্ধতি বিষয়ে আমাদের দেশে রয়েছে ১৮৭২ সালের অ্যাভিডেন্স অ্যাক্ট। এতে দু’ধরনের অ্যাভিডেন্সের কথা আছে। প্রথমত, মৌখিক অর্থাত্ সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হয়ে যা কিছু বর্ণনা করেন, দ্বিতীয়ত, ডকুমেন্টারি অর্থাত্ আদালতের নিরীক্ষণের জন্য যেসব ডকুমেন্ট উপস্থাপন করা হয়। ডকুমেন্ট হিসেবে যে পাঁচটি উদাহরণ অ্যাভিডেন্স অ্যাক্টের ধারা ৩-এ দেওয়া আছে, তাতে ইলেকট্রনিক অডিও বা ভিডিও অথবা অডিও-ভিজুয়াল রেকর্ড গণ্য হিসেবে নেই। সে কারণে বিচারিক কার্যক্রমে ইলেকট্রনিক রেকর্ডকে দালিলিক সাক্ষ্য প্রমাণ হিসেবে গ্রহণের জন্য সাক্ষ্য আইনটি যুগোপযোগী করতে আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে দুদক।

দুদক থেকে পাঠানো ঐ পত্রে বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর তপসিলভুক্ত অপরাধসমূহ তদন্ত করে বিচারার্থে বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করা হয়। কিন্তু সাক্ষ্য আইন-১৮৭২ এ ইলেকট্রনিক রেকর্ডের সাক্ষ্য মূল্য সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি বিধায় প্রায়শই তদন্ত ও বিচারকালে রেকর্ডে ধারণকৃত প্রমাণপত্র জব্দ ও উপস্থাপন করা হয় না।

তবে ইলেকট্রনিক রেকর্ড কম্পিউটার বিজ্ঞানের আওতাধীন যা আইন-১৮৭২ এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী আদালতের মতামত গঠনে কতিপয় বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত প্রাসঙ্গিক। টেপ রেকর্ড, টেলিফোনিক আলাপন ও ভিডিও ক্যাসেটে ধারণকৃত তথ্য উপাত্ত বিচারকালে প্রাসঙ্গিক মর্মে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত রয়েছে। অপরদিকে প্রতিবেশী দেশ ভারত ইলেকট্রনিক রেকর্ডের সাক্ষ্য মূল্য প্রদানের নিমিত্ত সাক্ষ্য আইন-১৮৭২ এ নতুন বিধানাবলী সংযুক্ত করেছে।