কমলগঞ্জে অধিকাংশ হোটেল রেস্তোরাঁয় নিম্নমানের খাবার

নিম্নমানের খাদ্যে সয়লাব কমলগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ হোটেল-রেস্তোরাঁ। চড়া দাম দিয়ে খাদ্যপণ্য কিনেও ভোক্তারা পাচ্ছেন না মানসম্মত খাবার। রান্নার সঙ্গে জড়িতদের বেশির ভাগই পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় কোনো সরঞ্জাম ব্যবহার করছে না। এসব হোটেলে খোলামেলা স্থানে তৈরি হচ্ছে খাবার। খোলাখাবারে বসছে মশা-মাছি।

ভানুগাছ, শমশেরনগর, মুন্সীবাজার, আদমপুর, পতনঊষারসহ উপজেলার ছোটো-বড়ো বাজারে শতাধিক হোটেল-রেস্তোরাঁ পরিচালিত হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এসব হোটেল-রেস্তোরাঁয় নিয়োজিত শ্রমিকরা ময়লা কাপড়-চোপড় পরিধান করে উন্মুক্তভাবে খাবার তৈরি ও বিতরণ করছে। কোনো হোটেলেই শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, ডিউটি চলাকালীন পোশাক, গ্লাভস, টুপি— কিছুই চোখে পড়েনি। এমনকি শিশু শ্রমিকদেরও এসব হোটেলে কাজ করতে দেখা গেছে। হোটেলগুলোতে অধিকাংশ সময়ে পচা, বাসি খাবার কৌশলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। চা থেকে শুরু করে সকল প্রকার খাবারের মান ও নমুনা নিম্নমানের হলেও চড়া দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত দুই জন ভোক্তা ও সরকারি চাকরিজীবী এক ভোক্তা নিজের পরিচয় গোপন রেখে বলেন, আমরা কাজের তাগিদে বাধ্য হয়ে দুপুরে হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাবার গ্রহণ করি। হোটেলের নোংরা পরিবেশ দেখে মালিকদের কিছু বললে তারা এসব বিষয়ে কোনো কর্ণপাত করে না। এমনকি নিম্নমানের হোটেলসমূহে হাত পরিষ্কারের মতো ব্যবস্থা এবং সাবানটুকুও পাওয়া যায় না। ফলে নোংরা পরিবেশে নিম্নমানের খাবার খেয়ে প্রতারিত হওয়া ছাড়াও পেটের পীড়া, গ্যাস্ট্রিকসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন ক্রেতারা।

অভিযোগ বিষয়ে শমশেরনগর ও ভানুগাছ বাজারের দুই হোটেল মালিক বলেন, আমরা কখনো পচা-বাসি খাবার দেই না। জিনিসপত্র, বিদ্যুত্ ও গ্যাস বিলের সঙ্গে তারতম্য রেখেই দাম নেওয়া হচ্ছে। মফসসলে সবকিছু মেনে ব্যবসা পরিচালনা করার বাস্তবতা নেই বলে তারা মন্তব্য করেন।

এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা স্যানেটারি পরিদর্শক দুলাল আহমদ বলেন, হোটেল-রেস্তোরাঁসমূহে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। তাছাড়া নিজেও তদারকি করছি। তিনি আরো বলেন, কেউ প্রকাশ্যে ধূমপান করলেও জরিমানা করা হচ্ছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, এসব বিষয়ে ভোক্তা অধিকার এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করছে। তারপরও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।