পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনসিসিআইএ) হেফাজতে থাকা মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি নিজের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের সুনির্দিষ্ট বিষয় জানাতে সংস্থাটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের উইকেটকিপার ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্তে সহযোগিতার অবস্থান পরিষ্কার করলেও এনসিসিআইএ এখন পর্যন্ত তার সঙ্গে যথাযথভাবে যোগাযোগ করেনি বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।
ইংল্যান্ডে পাকিস্তানের টেস্ট সিরিজ চলার সময় গত ৩১ আগস্ট রিজওয়ানের মোবাইল ফোন নিয়ে যায় এনসিসিআইএ। তখন তাকে বলা হয়েছিল, তিন ঘণ্টার মধ্যেই ফোনটি ফেরত দেওয়া হবে। তবে প্রায় চার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো ফোনটি ফেরত পাননি তিনি।
এর আগে এনসিসিআইএ-র তদন্ত করার এখতিয়ার চ্যালেঞ্জ করে লাহোর হাইকোর্টে একটি আবেদন দায়ের করেছিলেন রিজওয়ান। তবে গত ১৭ সেপ্টেম্বর আদালত তাঁর সেই আবেদন খারিজ করে তদন্তকারী সংস্থাকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত এনসিসিআইএ-কে সতর্ক করে নির্দেশ দেয় যেন তদন্তের নামে এই ক্রিকেটারকে কোনো প্রকার অযথা হয়রানি বা ভোগান্তিতে ফেলা না হয়।
আদালতের ওই সিদ্ধান্তের প্রায় দুই সপ্তাহ পর এনসিসিআইএকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠান রিজওয়ান। সেখানে তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্তে সহযোগিতা করার বিষয়ে তার অবস্থান পরিষ্কার। কিন্তু এরপরও এনসিসিআইএ তার সঙ্গে যথাযথভাবে যোগাযোগ করেনি। বিশেষ করে কোন ঘটনার তদন্ত হচ্ছে, সেটি লিখিতভাবে জানাতে এবং কখন তাকে এনসিসিআইএ-এর সামনে হাজির হতে হবে, তা স্পষ্ট করার অনুরোধ করেছেন তিনি।
নিজের মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও চিঠিতে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছেন রিজওয়ান। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যে অবস্থানের সময় আইনগতভাবে বাধ্য না হয়েও এনসিসিআইএকে নিজের মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন। সে সময় তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল, তিন ঘণ্টার মধ্যেই ফোনটি ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু প্রায় চার সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও ফোনটি এখনো এনসিসিআইএর কাছে রয়েছে।
রিজওয়ান আরও জানান, ফোনটির পাসওয়ার্ডও তিনি এনসিসিআইএ কর্মকর্তাদের দিয়েছিলেন। এরপরও ফোন ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সংস্থাটি তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, স্বেচ্ছায় ফোন হস্তান্তর এবং তদন্তে সহযোগিতার মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। এখন এনসিসিআইএরও তার ফোন ফেরত দেওয়া এবং কোন বিষয়ে তদন্ত চলছে, তা ব্যাখ্যা করা উচিত।
রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হকের বিরুদ্ধে এনসিসিআইএর তদন্তের সূত্রপাত পাকিস্তানের দ্বিতীয় টেস্টে পরাজয়ের পর। ওই ম্যাচে হারের পর রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হকসহ সাত ক্রিকেটারকে দ্রুত পাকিস্তানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে ইমাম-উল-হক এনসিসিআইএর দেওয়া প্রশ্নপত্র পূরণ করে জমা দেন। তবে তদন্ত পরিচালনার এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিজওয়ান আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে এ বিষয়ে তার আবেদন লাহোর হাইকোর্টে খারিজ হলেও আদালত তাকে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেন।