বৃষ্টির বাধা পেরিয়ে অবশেষে মাঠে গড়িয়েছে এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটে বাংলাদেশের লড়াই। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমিয়ে ১৩ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনাল ম্যাচে তাওহিদ হৃদয়ের বিধ্বংসী ৪২ রানের ওপর ভর করে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১১ রানের লড়াকু পুঁজি গড়েছে লিটন দাসের দল। ফাইনালের টিকিট পেতে নির্ধারিত ১৩ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ১১২ রান।
বৃহস্পতিবার (১ নভেম্বর) জাপানের নিশিনে টস জিতে বাংলাদেশকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান পাকিস্তান অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহান। বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত ২০ ওভারের ম্যাচ থেকে ৭ ওভার কেটে ১৩ ওভারে নামিয়ে আনা হলে শুরু থেকেই দ্রুত রান তোলার তাগিদ ছিল লাল-সবুজের ব্যাটারদের।
তবে শুরুটা মোটেও স্বস্তিদায়ক হয়নি বাংলাদেশের। ইনিংসের প্রথম চার ব্যাটারের কেউই প্রত্যাশা অনুযায়ী দাঁড়াতে পারেননি। টপ অর্ডারে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ৭ ও পারভেজ হোসেন ইমন মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন। ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন অধিনায়ক লিটন কুমার দাসও; মাত্র ২ রান করে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। আরেক ওপেনার সাইফ হাসান দুটি ছক্কা ও একটি চারে ১৭ বলে কিছুটা লড়াই চালিয়ে ১৯ রান করে আউট হলে মাত্র ৪৫ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে তীব্র চাপে পড়ে দল।
সেখান থেকে পঞ্চম উইকেটে দলের হাল ধরেন তাওহিদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৫৩ রানের জুটি। এর মধ্যে চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছুটিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন হৃদয়। ২৫ বলে ৪টি ছক্কা ও ২টি চারের সাহায্যে ৪২ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে দলীয় ৯৮ রানে আউট হন তিনি।
হৃদয়ের বিদায়ের দুই বল পর ১৬ বলে ১১ রান করে ফিরে যান মোসাদ্দেকও। ইনিংসের শেষ বলে রিশাদ হোসেন আউট হলে নির্ধারিত ১৩ ওভারে ৭ উইকেটে ১১১ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। শেষ দিকে ৪ বলে ৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন মাহেদি হাসান।
পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন স্পিনার সুফিয়ান মুকিম; তিনি সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট শিকার করেন। এ ছাড়া আরাফাত মিনহাজ দুটি ও সাইম আইয়ুব নেন একটি উইকেট।