পেঁয়াজের ঝাঁজ আরো বেড়েছে

মাত্র দেড় মাসের মাথায় আবার উত্তাপ ছড়িয়েছে পেঁয়াজের বাজারে। রীতিমতো যেন ‘আগুন’ লেগেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজে দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) তাদের গতকালের বাজারদরের প্রতিবেদনে পেঁয়াজের দাম বাড়ার তথ্য তুলে ধরেছে।

এদিকে হঠাত্ করে আবার নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন ভোক্তারা। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ভারতের কয়েকটি অঞ্চলে সৃষ্ট বন্যার কারণে পেঁয়াজ আমদানি কমে গেছে। এছাড়া ঈদুল আজহার কারণে দিনাজপুরের হিলি বন্দর আট দিন বন্ধ থাকায় দেশে পেঁয়াজ আমদানি হয়নি। সবমিলে দেশে আমদানিকৃত পেঁয়াজের সংকট দেখা দেওয়ায় দাম বাড়তে শুরু  করেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা ও দেশি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়। যা গত সপ্তাহে ছিল যথাক্রমে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা ও ৪০ থেকে ৪৫ টাকা।

উল্লেখ্য, এর আগে জুলাইয়ের শুরুতে দেশে হু হু করে পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করে। সেসময় এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। দেশি পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ৫০ টাকা ও আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৪৫ টাকা পর্যন্ত ওঠে। তখন ব্যবসায়ীরা বলেছেন, ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানিতে প্রণোদনা তুলে নেওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ভোক্তাদের আশঙ্কা, কারসাজি করে সেসময় একটি অসাধু চক্র এভাবে রাতারাতি পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কঠোর নজরদারিতে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে আসে। এখন কোরবানির ঈদের পর আবার অস্থির হয়ে উঠেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির বাজার। প্রতিদিন হু হু করে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম।

গত তিন দিনে দাম বেড়ে হিলি বন্দরের আড়তে নিত্যপ্রয়োজণীয় এই পণ্যটি পাইকারি বেচা-কেনা হচ্ছে ৩৩ থেকে ৩৫ টাকায়। যা গত ১০/১২ দিনের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ১৩ থেকে ১৫ টাকা। বন্দরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মোর্শেদুর রহমান গতকাল ইত্তেফাককে জানান, ভারতের মহারাষ্ট্র ও উত্তর প্রদেশসহ বিভিন্ন প্রদেশে বন্যা শুরু হয়েছে। এজন্য সেখানে পেঁয়াজের সংকট চলছে। দামও বেড়ে গেছে। তিনি আরো জানান, ভারতের আমদানিকারকরা প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৫ রুপি করে চেয়েছেন। এরপর ভারতীয় ট্রাকে করে সেখান থেকে আনতে প্রতি কেজিতে পড়বে ৬ রুপি। তাতে বাংলাদেশে আনতে (বাংলাদেশি টাকায়) ৩৮ থেকে ৪০ টাকা খরচ হবে। বাধ্য হয়ে ঐ দামে কিনতে হচ্ছে। তবে বেশি দামের পেঁয়াজ বাংলাদেশে আসতে এখনো তিন থেকে চার দিন সময় লাগবে। তখন পেঁয়াজের দাম আরো বাড়বে।

এদিকে হিলিতে পেঁয়াজ কিনতে আসা রংপুরের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, গত রবিবার ৩১ থেকে ৩২ টাকা দরে পেঁয়াজ কিনেছি। মঙ্গলবার তা ৩৫ টাকায় উঠেছে। অথচ ঈদের আগে এই মানের পেঁয়াজ ২০-২২ টাকায় বেচা-কেনা হয়েছে।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার ২৩টি ট্রাকে ৫২১ টন, গত সোমবার ২০টি ট্রাকে ৪৭২ টন এবং গতকাল মঙ্গলবার ১৭টি ট্রাকে ৩২৪ টন পেঁয়াজ এই বন্দরের মাধ্যমে আমদানি হয়ে দেশে আসে। দাম বাড়ায় পেঁয়াজ আমদানিও কমে গেছে।