ডাহুক নদীতে দেদারসে বালু-পাথর উত্তোলন, ঝুঁকিতে শিল্প প্রতিষ্ঠান

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ডাহুক নদী থেকে আবারও অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন শুরু করেছে একটি গোষ্ঠী। উত্তোলন করা বালু-পাথর পরিবহনের জন্য কাজী ফার্মসের জমিতে জোর করে প্রবেশের অভিযোগ উঠেছে চক্রটির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজেদের জমি ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে মামলা করেছে বেসরকারি কৃষি-শিল্প প্রতিষ্ঠানটি।

সম্প্রতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ পোলট্রি শিল্পপ্রতিষ্ঠান কাজী ফার্মস।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কাজী ফার্মসের প্রতিনিধি বোরহান নামের একজন বাদী হয়ে ৪০ জনের নাম উল্লেখ করে এই মামলা দায়ের করেন।

তেঁতুলিয়া থানার ওসি মো. লাইছুর রহমান মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কাজী ফার্মস কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থানীয়ভাবে ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত আবু তাহেরের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ একটি চক্র গত সোমবার দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের কাটাপাড়া মৌজায় কাজী ফার্মসের সীমানা পিলার ভেঙে ফেলে। বর্তমানে ওই সীমানা দিয়ে অবৈধভাবে তোলা পাথর ও বালু পরিবহন করছে তারা।

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে একদিকে যেমন কাজী ফার্মসের নিরাপত্তা ও সম্পত্তি হুমকির মুখে পড়েছে, অন্যদিকে পাথর উত্তোলন ও পরিবহনের কারণে খামারের পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে ডাহুক নদী থেকে প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ পাথর ও বালু উত্তোলনের অভিযোগে পুলিশের দায়ের করা একটি মামলায় গত ২২ জুন আবু তাহেরকে জেলহাজতে পাঠিয়েছিলেন আদালত। সম্প্রতি জামিনে বের হয়ে তিনি ও তার দলবল আবারও ডাহুক নদী থেকে পাথর ও বালু তোলা শুরু করেছেন। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও ভাঙচুরের অভিযোগে কাজী ফার্মসের করা আরও চারটি মামলা চলমান রয়েছে।

তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি লাইছুর রহমান বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, মামলায় ৪০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ৭০ জনকে।

এদিকে বালু উত্তোলনের অনুমতি রয়েছে কিনা জানতে চাইলে আবু তাহের বলেন, ‘সেখানে সনাতন পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন করি। অনুমতি নেওয়া লাগবে কেন।’

কাজী ফার্মস এর দায়ের করা মামলায় অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কারো জায়গা দখল করিনি। ওটা আমার পৈত্রিক জমি। আমি ওসি-ডিসি-এমপিসহ সব জায়গায় অভিযোগ দিয়েছি। আমি এলাকার লোকজন নিয়ে সেখানে দাঁড়াবো, দেখি তাদের পক্ষে কত লোক আসে?’