এনসিটিবির গড়িমসিতে ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ শিক্ষার্থী

সিলেবাস ঘোষণা হয়নি, একাদশে বাংলা বিষয়ের পাঠদান বন্ধ

উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে গত ২৪ সেপ্টেম্বর। এরই মধ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) প্রকাশিত বাংলা, ইংরেজি ও তথ‍্য যোগাযোগ প্রযুক্তি বই হাতেও পেয়েছে। সুতরাং শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই পুরোদমে ক্লাস হওয়ার কথা। কিন্তু এনসিটিবি এখনো বাংলা বিষয়ের সিলেবাস ঘোষণা করেনি।

এ কারণে বর্তমানে বাংলাবিষয়ের পাঠদান বন্ধ রয়েছে। ইংরেজি বিষয়ে কনটেন্ট পড়ানো শুরু হলেও প্রশ্ন কাঠামো ও নম্বর বণ্টনে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে কাটেনি ধোঁয়াশা। এ ব্যাপারেও এখনো স্পষ্ট কোনো বার্তা দেয়নি এনসিটিবি। সংস্থাটির গরিমসিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন একাদশের প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থী।

এদিকে কলেজগুলোতে বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। কারণ উচ্চমাধ্যমিকে পাঠদান সময় কম থাকে। ফলে শিক্ষকরা সিলেবাস শেষ করতে চাপের মধ্যে পড়েন। অন‍্যদিকে শিক্ষার্থীরা সিলেবাস শেষ হচ্ছে না দেখে পরীক্ষা প্রস্তুতি নিতে কোচিং-নির্ভর হয়ে পড়ে। আর বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে ফলাফল খারাপ করে বসে।

সিলেবাসের বিষয়ে শিক্ষকদের কাছে জানতে চাইলে তারা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, এনসিটিবি প্রতি বছরই সিলেবাস প্রকাশ নিয়ে স্বেচ্ছাচারিতা করে আসছে। তারা পাঠদান শুরুর অনেক দিন পরে সিলেবাস প্রকাশ করে। ফলে আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিলেবাস পড়িয়ে শেষ করতে পারি না। গত বছর পাঠদান শুরুর ছয় মাস পর বাংলা বিষয়ের সিলেবাস প্রকাশ করে। এতে করে এবারের যারা এইচএসসি পরীক্ষা দিবে তাদের বাংলা বিষয়ের ফলাফলে বিপর্যয় ঘটতে পারে।

এনসিটিবিতে সিলেবাসের এই বিষয়টির যেন দেখার কেউ নেই। আবার ইংরেজি বিষয়ে যখন খুশি তখন প্রশ্ন কাঠামো ও মানবণ্টন পরিবর্তন করে থাকে। এক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীরা চরম মানসিক চাপে পড়ে এবং পর্যাপ্ত সময় পায় না অনুশীলন করার। এতে করে ইংরেজিতেও ফল বিপর্যয় ঘটে।

বিষয়টি নিয়ে এনসিটিবির সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বর্তমানে তারা পাঠ‍্যপুস্তকের ছাপার কাজ নিয়ে ব‍্যস্ত রয়েছেন। সুতরাং কবে নাগাদ সিলেবাস ও মানবণ্টন চূড়ান্ত করে প্রকাশ করবেন, তা বলতে পারবেন না। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, মানবণ্টন ও সিলেবাস নিয়ে যাদের প্রস্তাবনা দেওয়ার কথা তারা দেন না। ফলে সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না, সিলেবাসও চূড়ান্ত হচ্ছে না। অর্থাত্ এনসিটিবির দায়িত্বহীনতার খেসারত দিচ্ছেন শিক্ষকরা আর লাখ লাখ শিক্ষার্থীরা। দায়িত্বশীলরা যথাযথ কার্যক্রম করলে বাংলা বিষয়ের সিলেবাস ও ইংরেজি বিষয়ের মানবণ্টন পাঠদান শুরুর আগেই প্রকাশ করা যেত। ফলে শুরুতেই পাঠ পরিকল্পনা করে নির্দিষ্ট সময়ে সিলেবাস শেষ করে পরীক্ষা প্রস্তুতি নিতে পারত লাখো শিক্ষার্থী। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিপর্যয় এড়াতে অবিলম্বে বাংলা বিষয়ের সিলেবাস ও মানবণ্টন প্রকাশ করা উচিত।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য (শিক্ষাক্রম) প্রফেসর ড. এ কে এম শওকত আলী খান গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, বাংলা বিষয়ের সিলেবাস গতবারেরটা রাখা সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী রবিবার বা সোমবার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে এনসিটিবি।