পেঁয়াজ-রসুন-ব্রয়লারে স্বস্তি চাল-তেলে বাড়তি চাপ

রাজধানীর খুচরা বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে সরু চাল নাজিরশাইল ও মিনিকেটের দাম বেড়েছে। এছাড়া, খোলা সয়াবিন, পাম অয়েল ও সুপার পাম অয়েলের দামও বাড়তি। তবে ভোক্তাদের জন্য স্বস্তির বিষয় হলো: একই সময়ে বাজারে পেঁয়াজ, রসুন ও ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শান্তিনগর, কাওরান বাজার ও তুরাগ এলাকার নতুনবাজারে খোঁজ নিয়ে বিভিন্ন পণ্যের দামের এ চিত্র পাওয়া যায়। বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি সরু চাল নাজিরশাইল ও মিনিকেট ৭২ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। যা সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে দুই টাকা বেশি। তবে মোটা ও মাঝারিমানের চাল ইরি, স্বর্ণা, পাইজাম, আটাশের দাম বাড়েনি। মানভেদে এসব চাল ৫০ থেকে ৬৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। সরু চালের পাশাপাশি খোলা সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১৮৬ থেকে ১৯৫ টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন তা ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খোলা পাম অয়েলের দাম ১৭০ থেকে ১৭৪ টাকা থেকে বেড়ে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা এবং সুপার পাম অয়েলের দাম ১৭২ থেকে ১৭৮ টাকা থেকে বেড়ে ১৭২ থেকে ১৮০ টাকা লিটারে দাঁড়িয়েছে। সরকারের বিপণন সংস্থা টেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) প্রতিদিন নিত্যপণ্যের বাজারদর নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে। সংস্থাটির গতকালের প্রতিবেদনেও খোলা সয়াবিন, পাম অয়েলের দাম বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরেছে।

তবে স্বস্তির বিষয় হলো, সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে দেশি পেঁয়াজ, দেশি রসুন, আমদানি করা রসুন, ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে। দেশি পেঁয়াজের দাম ৫০ থেকে ৫৫ টাকা থেকে কমে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে নেমেছে। অর্থাত্ সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন—দুই দিকেই পাঁচ টাকা করে কমেছে দাম। দেশি রসুনের দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা থেকে কমে ৯০ থেকে ১২০ টাকা কেজি হয়েছে। আমদানি করা রসুনের দামও ১৮০ থেকে ২০০ টাকা থেকে কমে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে নেমেছে।

ব্রয়লার মুরগির দামও এক সপ্তাহে কমেছে। আগে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন তা ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে সবজির চড়া দাম এখনো প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।      

গতকাল বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে বেগুন ১০০ থেকে ১৩০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, পটোল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঝিঙা, ধুন্দল ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাওরান বাজারের সবজি ব্যবসায়ী নিজামউদ্দিন  বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় উত্পাদনস্থল থেকে পাইকারি বাজার এবং পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজার—প্রতিটি ধাপেই পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। যার প্রভাবে সবজির দাম বাড়তি। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় দাম একটু কম। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নভেম্বর থেকে সবজির দাম কমতে শুরু করবে বলে তিনি জানান। কারণ, এ সময় বাজারে শীতকালীন সবজি আসা শুরু করবে। সবজির পাশাপাশি মাছের দামও বাড়তি। রুই, কাতলা, শিং, কই, পাবদা, চিংড়ি, তেলাপিয়া ও পাঙাশ সব ধরনের মাছের কেজিতেই ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আটা ও ময়দার দামও আগের তুলনায় বেশি। তিন সপ্তাহ আগে সরবরাহকারী করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো আটা-ময়দার দাম বাড়িয়েছে। এক মাসের মধ্যে খোলা আটার দাম কেজিতে ৫ টাকা এবং ময়দা ১০ টাকা বেড়েছে। মূল্যবৃদ্ধির পর প্রতি কেজি খোলা আটা ৫০ টাকা এবং খোলা ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।