নিলাম মানেই অর্থের ঝনঝনানি। যে দলের হাতে যত বেশি অর্থ, খেলোয়াড় দলে ভেড়ানোর লড়াইয়ে তাদের সুযোগও তত বেশি। পছন্দের ক্রিকেটারকে দলে নিতে বাড়তি অর্থ খরচের প্রতিযোগিতাই হয়ে ওঠে নিলামের অন্যতম আকর্ষণ। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন আয়োজন ডোমেস্টিক থ্রি টুর্নামেন্টে থাকছে না সেই চেনা নিয়ম। এখানে অর্থের বদলে পয়েন্টের ভিত্তিতে হবে ক্রিকেটারদের নিলাম।
ডি থ্রি টুর্নামেন্টের জন্য অভিনব এই নিলাম পদ্ধতির পরিকল্পনা করেছে বিসিবি। নিলাম হওয়ার কথা রয়েছে আগামী ২৬ অক্টোবর। অর্থের নির্দিষ্ট বাজেটের পরিবর্তে প্রতিটি দলের জন্য বেঁধে দেওয়া হবে নির্দিষ্ট পয়েন্ট। সেই পয়েন্টের সীমার মধ্যেই দলগুলোকে নিজেদের স্কোয়াড সাজাতে হবে। ফলে কোনো ক্রিকেটারকে দলে নিতে বেশি অর্থ খরচ করার সুযোগ থাকবে না; বরং কৌশল ও পরিকল্পনার মাধ্যমে পয়েন্ট ব্যবহারের ওপরই নির্ভর করবে দল গঠনের সাফল্য।
বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফীস জানিয়েছেন, ডি থ্রি টুর্নামেন্টে ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি ও ডেইলি অ্যালাউন্স আগেই নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, 'ডি থ্রি টুর্নামেন্ট নিয়ে খুব সফলভাবে দুটি প্রোগ্রাম করেছি। দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এই টুর্নামেন্টে ম্যাচ ফি ও ডেইলি অ্যালাউন্স নির্ধারিত।'
এরপরই নিলামের নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে জানান নাফীস। তিনি বলেন, 'অকশনের যে সিস্টেম, তা পয়েন্টের সিস্টেমে। অকশনে যত বেশি ডাকা যায় তত পেমেন্ট, এখানে এমন থাকছে না। পয়েন্ট অকশন হবে।' অর্থাৎ নিলামে কোনো দল যত বেশি দাম হাঁকবে, তত বেশি অর্থ খরচ হবে-এমন নিয়ম থাকছে না। বরং প্রতিটি দলের জন্য নির্দিষ্ট পয়েন্ট বরাদ্দ থাকবে। সেই সীমা অতিক্রম করে কোনো ক্রিকেটারকে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
নাফীসের ভাষায়, 'প্রতিটি দলের পার্স বেঁধে দেওয়া থাকবে, যে এত পয়েন্টের বেশি কেউ ডাকতে পারবে না। দলগুলোকে ওই পয়েন্টের মধ্যে থেকেই দল গঠন করতে হবে।' ডি থ্রি টুর্নামেন্টে প্রতিটি দলকে ২৩ জনের স্কোয়াড গঠন করতে হবে। এরই মধ্যে আইকন ক্রিকেটার নেওয়া হয়েছে। ফলে নিলামের মূল আকর্ষণ হবে বাকি ২২ ক্রিকেটারকে দলে ভেড়ানোর লড়াই। নাফীস বলেন, '২৩ জন খেলোয়াড় নিয়ে দল করতে হবে। আইকন নেওয়া হয়েছে, বাকি ২২ জন নেবে দলগুলো।'