মিরপুরের বস্তিতে অগ্নিকাণ্ড

খোলা আকাশের নিচে এখনো ১০ হাজার পরিবারের বসবাস

 ‘দেখতে দেখতে পাঁচ দিন চইল্যা গেল। এহনও আমাগো ঘর উঠল না। আর কতদিন এই স্কুলে কষ্টে থাকতে হইবো জানি না। মন্ত্রী-এমপিরা আশ্বাস দিছে, শিগিগরই থাহনের ব্যবস্থা কইরা দিব। সেই অপিক্কায় আছি।’ গতকাল এভাবেই নিজের কষ্টের কথা বলছিলেন মিরপুরের চলন্তিকা ও ঝিলপাড় বস্তির আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মজিবর মিয়া।

ভয়াবহ আগুনে পোড়া বস্তির ১০ হাজার পরিবার এখনো খোলা আকাশের নিচে চরম কস্টে আছেন। সরকারি সহযোগিতায় খাবার, পোশাক ও ওষুধের সমস্যা কিছুটা লাঘব হলেও বাসস্থান সমস্যা কাটেনি। স্থানীয় স্কুলে এক সঙ্গে গাদাগাদি করে একপ্রকার দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে তারা। তবে সরকার ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত আছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শাড়ি, লুঙ্গি কাপড়সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বিতরণ করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের। এর আগে সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের পাশাপাশি বিএনপি ও গণফোরামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা ঐ বস্তিতে গিয়ে ত্রাণ বিতরণ করেন। সেই সঙ্গে তারা বস্তিবাসীকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, বাসস্থানের পাশাপাশি সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে তাদের। গত শুক্রবার বস্তিতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে স্থানীয় বঙ্গবন্ধু বিদ্যানিকেতনসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। কোরবানির ঈদের পর ২০ আগস্ট থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলার কথা থাকলেও পাঁচ দিন পিছিয়ে ২৪ আগস্টে খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বস্তিবাসীকে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে শিগিগরই তাদেরকে স্কুল ছাড়তে হবে। কারণ স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষতি হচ্ছে।

এ বিষয়ে মো. সুমন, আঁখি আক্তারসহ বস্তির বাসিন্দারা বলেন, তিন দিন পর স্কুলে আর থাকতে দেওয়া হবে না তাদের। এর মধ্যেই বস্তিতে ঘর তৈরি করা হবে কি না তারা জানেন না। এমতাবস্থায় তাদেরকে হয় গ্রামে ফিরে যেতে হবে, না হয় অন্যত্র চলে যেতে হবে। এভাবেই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন তারা। বস্তিবাসী বলেন, গত পাঁচ দিন ধরে খেয়ে-না খেয়ে জীবন চলছে তাদের। আগুনের সময় তারা এক কাপড়ে ঘর থেকে বের হয়েছে। এখন বস্তিতে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।

কতদিন এভাবে খোলা আকাশের নিচে থাকবে জানতে চাইলে স্থানীয় কাউন্সিলর রজ্জব আলী বলেন, আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের বস্তির খালি জায়গায় এখনো ঘর করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে ধ্বংসস্তূপ সরানোর পর সবকিছু ঠিক করে দ্রুতই তাদের অনুমতি দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার সন্ধ্যায় রূপনগর থানাধীন চলন্তিকা মোড় সরকারি খাস প্রায় সাত বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা ঝিলপাড় বস্তিতে আগুন লাগে। এতে প্রায় ৪ হাজার ঘর আগুনে পুড়ে ১০ হাজার পরিবার খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। বস্তিবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীরা এই এলাকায় টিনশেড বস্তি গড়ে তুলে লাখ লাখ টাকা ভাড়া আদায় করে। নতুন করে বস্তি গড়ে তুলতে ঐ প্রভাবশালী চক্র পরিকল্পিতভাবে বস্তিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।