মাদকের তথ্য দেওয়ায় গ্রাম পুলিশকে মারধর, আটক ৩

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় এক গ্রাম পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগে আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের কাজে বাধা ও পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাত নয়টার দিকে উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের হাজরাকাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আটক তিনজন হলেন হাজরাকাটি গ্রামের ফারুক বিশ্বাস, রফিকুল বিশ্বাস ও রাশেদ খাঁ।

গ্রাম পুলিশ সোহেল শেখের অভিযোগ, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে পুলিশকে সহযোগিতা করায় স্থানীয় কয়েকজন তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। ৩ অক্টোবর রাত নয়টার দিকে হাজরাকাটি বাজারে নজরুল ইসলামের চায়ের দোকানের সামনে বিল্লাল বিশ্বাস, ফারুক বিশ্বাস ও হজরত সরদার তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন। এ সময় তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

ওই রাতেই তালা থানায় করা সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) সোহেল শেখ উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মাদক সেবনের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দেওয়ায় তারা তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। মারধরে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়।

সোহেল শেখ আজ সোমবার বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় একই বাজারের একটি চায়ের দোকান থেকে পানি খেয়ে বের হওয়ার সময় তাকে গালিগালাজ করেন হজরত সরদার এবং টি-শার্টের কলার ধরে মারতে উদ্যত হন। একপর্যায়ে সোহেলকে দোকানের ভেতরে আটকে রাখা হয়। তখন তিনি থানায় খবর দেন।

সোহেল শেখের ভাষ্য, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হজরত সরদার ও ফারুক বিশ্বাসকে আটক করে। তাদের নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের সঙ্গীরা বাধা দেন এবং পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়ান। একপর্যায়ে হজরত সরদার সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে আটক করেন।

পুলিশের কাজে সরাসরি বাধা দিয়ে পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটেনি। তবে কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে সেখানে ত্রাসের সৃষ্টি করছিলেন। একপর্যায়ে তারা জড়ো হয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেন। সেখান থেকে ওই তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

তালা থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, পুলিশের কাজে সরাসরি বাধা দিয়ে পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটেনি। তবে কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে সেখানে ত্রাসের সৃষ্টি করছিলেন। একপর্যায়ে তারা জড়ো হয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেন। সেখান থেকে ওই তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে সোহেল শেখকে মারধরের অভিযোগের সঙ্গে গতকাল রাতের অভিযানের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন ওসি। 

তিনি বলেন, ওই ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। তবে ওই অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল রাতে অভিযান চালানো হয়নি। এটি আলাদা একটি অভিযান।