ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর কোলচুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৩০ শিক্ষার্থী ছাড়পত্র (ট্রান্সফার সার্টিফিকেট) নিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধ, হুমকি এবং শিক্ষার পরিবেশ না থাকার অভিযোগ তুলে সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর কথা জানিয়েছেন অভিভাবকেরা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভাষাণচর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর বাজারে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন অভিভাবকেরা। এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অভিভাবক মুন্নাফ শেখ।
সংবাদ সম্মেলনে অভিভাবকেরা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে সাবেক প্রধান শিক্ষক আ. সামাদের মেয়েকে সমর্থন না করায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষুব্ধ হন। এরপর সাবেক প্রধান শিক্ষক ও তার ছেলেরা বিভিন্ন সময় অভিভাবকদের হুমকি দিয়ে আসছেন। এতে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে তারা বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র নিয়ে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়েছেন।
লিখিত বক্তব্যে অভিভাবক মুন্নাফ শেখ বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আ. সামাদের মেয়েকে পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে সমর্থন না করায় তিনি ও তার ছেলে বিভিন্ন সময় আমাদের হুমকি দিয়ে আসছেন। তাই বাচ্চাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছি।’
আরেক অভিভাবক মো. আকল শেখ বলেন, তার ছেলে ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতিতে সন্তানের পড়াশোনা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি ছাড়পত্র নিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছেন।
অভিভাবক মাকসুদা বেগমও বিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সন্তানদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করানোর জন্যই অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অভিভাবকেরা আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী খান শিক্ষকতার পাশাপাশি পশু চিকিৎসা, বিবাহ নিবন্ধন ও স্থানীয় মাতব্বরির সঙ্গে যুক্ত থাকেন। এতে বিদ্যালয়ে পাঠদানের পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রয়োজনীয় মনোযোগ ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
তবে অভিভাবকদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আ. সামাদ। তার বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সত্য নয়।
আ. সামাদ বলেন, ‘আমি অবসর গ্রহণের পর বিদ্যালয়ে যাই না। একটি মহল তাদের স্বার্থে অভিভাবকদের ব্যবহার করছে।’
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী খান বলেন, ‘আমি টুকটাক পশু চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত। তবে স্কুল বাদ দিয়ে নয়। স্কুল চলাকালে আমি ক্লাসেই থাকি। বিশেষ প্রয়োজনে মাঝে মধ্যে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যাই।’
অভিভাবকেরা বলেন, সন্তানদের নিরাপত্তা ও সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনার কথা চিন্তা করেই তাদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছেন। তাদের দাবি, বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন কোনো ধরনের ভয় বা আতঙ্ক ছাড়াই নিরাপদে বিদ্যালয়ে যেতে পারে এবং স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।