সাত মাসে বিদেশে সোয়া চার লাখের বেশি কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ, বেড়েছে প্রবাসী আয়

চলতি বছরের বিগত প্রায় সাত মাসের কিছু বেশি সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট ৪ লাখ ৩২ হাজার ৭৮৬ জন কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। একই সময়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার বেশি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ১ম বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলন।

বৈঠকে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গেছেন ৪ লাখ ৩২ হাজার ৭৮৬ জন বাংলাদেশি কর্মী। তাদের মধ্যে নারী কর্মীর সংখ্যা ৩৬ হাজার ৫৯০ জন।

বৈঠকে সংসদীয় কমিটি বিদেশে গমনাগমনকারী এবং ফেরত আসা প্রবাসী কর্মীরা বিমানবন্দরে যাতে কোনো ধরনের অবহেলা বা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিতের জোর সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ না রেখে স্বচ্ছতা ও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বৈঠকে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে ইরান থেকে ১২ জন নারী ও ৮ জন শিশুসহ আটকে পড়া মোট ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

বৈঠকে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, বর্তমানে সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মোট সংখ্যা ২ হাজার ৮৬০টি; যার মধ্যে বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে ২ হাজার ১৮৭টি। এসব বৈধ এজেন্সি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমেই মূলত কর্মী প্রেরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, মো. জসীম উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম হিলালী, নাসির উদ্দিন আহমেদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম এবং আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।