অফশোর ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে একই নগদ জমা অনুপাত-সিআরআর ও বিধিবদ্ধ তরল অনুপাত-এসএলআর সংরক্ষণ করতে হবে। বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ দেওয়ার লক্ষ্যে গঠিত ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের জন্য এই পদ্ধতি ঠিক করে দিয়েছে বাংলাদশে ব্যাংক। সম্প্রতি এক সার্কুলার জারি করে এই পদ্ধতি মানতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ডিপার্টমেন্ট অব অফসাইট সুপারভিশন থেকে জারি করা সার্কুলারটি সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো হয়েছে।
প্রচলিত ব্যাংকের মতো এসব ইউনিটকেও সাড়ে ৫ শতাংশ হারে নগদ এবং বিভিন্ন উপাদানের বিপরীতে ১৩ শতাংশ হারে রাখতে হবে। ব্যাংকগুলো চাইলে বৈদেশিক বা স্থানীয় মুদ্রায় তা সংরক্ষণ করতে পারবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাংকগুলোর অবদান বাড়াতে অফশোর ব্যাংকিং নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, সাধারণ ব্যাংকিংয়ের মতো অফশোর ব্যাংকিংয়ের কার্যক্রমেও দায়-সম্পদ ব্যবস্থাপনা (এএলএম) নীতিমালা মেনে চলতে হবে। তার মানে, প্রচলিত ধারার একটি ব্যাংক ১০০ টাকা আমানতের বিপরীতে সাড়ে ৮৩ টাকা এবং ইসলামী ব্যাংকগুলো ৮৯ টাকা ঋণ দিতে পারবে। আর মূলধন, সিআরআর ও এসএলআর হিসাবায়নের সময় অফশোর ব্যাংকিং বিবেচনায় নিতে হবে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের চলতি বছরের ১ জুলাইয়ের মেয়াদি ও চলতি দায়ের ওপর ভিত্তি করে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সিআরআর ও এসএলআর রাখতে হবে। আর এ-সংক্রান্ত রিপোর্ট করতে হবে আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে। তবে কোনো ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের চলতি ও মেয়াদি দায় কত, সে বিষয়ে রিপোর্ট করতে হবে আগামী ২৭ আগস্টের মধ্যে। উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালে অফশোর ব্যাংকিংয়ের অনুমোদন দেওয়া হলেও পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা জারি হয়েছে চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারিতে। অফশোর ব্যাংকিংয়ে দেশীয় মুদ্রায় কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হয় না। এতে শুধু ডলারের পাশাপাশি ইউরো, পাউন্ড, জাপানি ইয়েনের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হয়।