গোপালগঞ্জে ক্লিনিকের সামনের সড়কে সন্তান প্রসব

গোপালগঞ্জে ক্লিনিকের ফটকের সামনের রাস্তার ওপর সন্তান প্রসব করলেন এক গৃহবধূ। এসময় প্রসূতির আত্মচিত্কারে আশপাশের মহিলাসহ লোকজন ছুটে এসে প্রসূতি ও তার বাচ্চাকে আড়াল করাসহ সব ধরনের সহায়তা করলেও ক্লিনিকে কর্মরত  নার্স  ও কর্তৃপক্ষের মন গলেনি। তারা ক্লিনিকের গেট খোলেনি, এমনকি চিকিত্সাও দেয়নি। বরং ক্লিনিকে কর্মরত নার্স ইতি রানী রোগীকে বারবার হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন বলে স্বজনরা অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় রোগীর স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা যায়, গত সোমবার রাত সাড়ে ১২টায় শহরের ঘুল্লিবাড়ী মোড়ে মালঞ্চ ক্লিনিকের ফটকের সামনের রাস্তায় সন্তান প্রসব করেন সদর উপজেলার বোড়াশী গ্রামের নিয়ামূল শেখের স্ত্রী রোজিনা বেগম। প্রসূতির শাশুড়ি বিনা বেগম বলেন, সোমবার  রাতে গ্রামের বাড়িতে অন্তঃসত্ত্বা রোজিনা বেগমের প্রসব বেদনা উঠলে তাকে প্রথমে শহরের নার্গিস ক্লিনিকে নেয়া হয়। সেখানে চিকিত্সক না থাকায় তাকে মালঞ্চ ক্লিনিকে নেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। মালঞ্চ ক্লিনিকে পৌঁছানোর পর প্রসূতি প্রসব বেদনায় ছটফট শুরু করে। আমরা ক্লিনিকের গেট খুলতে অনুরোধ করি ও গেটে ধাক্কাধাক্কিও করি। আমাদের চিত্কারে আশপাশের লোকজনের ঘুম ভেঙে গেলেও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের মন গলেনি। তারা গেট খোলেনি, চিকিত্সাও দেয়নি। আমাদের সঙ্গে অমানবিক অচরণ করেছে। ক্লিনিকের নার্স ইতি রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন।

ঘুল্লিবাড়ী এলাকার বাসিন্দা লিমন বলেন, ক্লিনিক গেটে চিত্কার, চেঁচামেচি শুনে আমি বিল্ডিংয়ের ছাদে গিয়ে দেখি প্রসূতিকে নিয়ে স্বজনরা বিপাকে পড়েছে। পরে তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসি।

ঘুল্লিবাড়ী এলাকার  গৃহবধূ তুরানী সুলতানা বলেন, চিত্কার শুনে দেখি ক্লিনিক গেটের সামনের রাস্তায় গৃহবধূ বাচ্চা প্রসব করেছে। পরে কাপড় দিয়ে সদ্যজাত শিশু ও মাকে আড়াল করি। তারপর শিশুর নাড়ি কেটে দেই। প্রসূতি ও তার স্বজনদের চিত্কারে আমরা উঠে এলেও ক্লিনিকের মালিক ডা. অনুপ কুমার মজুমদার তখন ঘুমাচ্ছিলেন। তার নার্সসহ ক্লিনিকে কর্মরতরাও এগিয়ে আসেনি।

ক্লিনিক মালিক ডা. অনুপ কুমার মজুমদার বলেন, ঘটনার সময় আমি ঘুমিয়েছিলাম। বিষয়টি জানতে পারিনি। পরে জেনেছি এক প্রসূতি শেষ মুহূর্তের প্রসব বেদনা নিয়ে আমার ক্লিনিকে এসেছিল। তার স্বজনরা আমাদের ডাকাডাকি করেছিল। কিন্তু আমরা তাতে সাড়া দিতে পারিনি। একপর্যায়ে ঐ মহিলা সেখানে বাচ্চা প্রসব করে এবং পরে চলে যায়।