বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় নিহতদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হয়েছে। এ সময় সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ-সাম্প্রদায়িকতা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করার শপথ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে গ্রেনেড হামলার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবির মধ্য দিয়ে গতকাল বুধবার রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে পালিত হয়েছে ভয়াল একুশে আগস্টের ১৫তম বার্ষিকী। আওয়ামী লীগসহ স্বাধীনতার পক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা খুনিদের দ্রুত বিচারের কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গ্রেনেডের স্প্লিন্টারবিদ্ধ জীবন্মৃতদের দাবি, ঘাতদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি। গতকাল সকাল ৯টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গ্রেনেড হামলার স্থলে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের কর্মসূচি। প্রথমে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারা শ্রদ্ধা জানান।
আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদনকালে দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাহারা খাতুন, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর, উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টে নিহত সকল শহীদ, ৩ নভেম্বর জেলখানায় ৪ জাতীয় নেতা ও গ্রেনেড হামলার নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
পরে ১৪ দলের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, গণআজাদী লীগের সভাপতি এস কে শিকদার, জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা প্রমুখ। গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্বজন এবং বেশ কয়েকজন আহত নেতাকর্মী ক্র্যাচে ভর করে, হুইল চেয়ারে করে এসে শ্রদ্ধা জানান নিহতদের প্রতি। তাদের উপস্থিতি শোকের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়। ঐদিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।