দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা প্রায় ৭০ ভাগ মামলায় অপরাধীদের শাস্তি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেছেন, তদন্তের ক্ষেত্রে কমিশনের সক্ষমতা এখনো কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছায়নি। কমিশন শতভাগ মামলায় অপরাধীদের শাস্তি প্রত্যাশা করে। গতকাল বুধবার জাতিসংঘ উন্নয়ন তহবিলের (ইউএনডিপি) প্রতিনিধি ফিলিয়াট ম্যাটসেজার নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এসব তথ্য জানান। এ সময় ফিলিয়াট ম্যাটসেজা দুদকের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, তদন্তের ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কমিশন নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। গত তিন বছরে কমিশন প্রায় ৩ হাজার কর্মকর্তাকে একাধিক বিষয়ে একাধিক বার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। এক্ষেত্রে ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার টেকনিক্যাল সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে কমিশন বহুমাত্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে নৈতিক মূল্যবোধে জাগ্রত করার লক্ষ্যে দেশের স্কুল, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৮ হাজার ‘সততা সংঘ’ গঠন। এছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা, উপজেলা, নগর-মহানগর পর্যায়ের স্বচ্ছ এবং সত্ মানুষদের নিয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারি সেবা প্রদানের প্রক্রিয়াকে পদ্ধতিগত সংস্কারের মাধ্যমে ঘুষ, দুর্নীতি, দীর্ঘসূত্রতা এবং জনহয়রানি লাঘবের লক্ষ্যে কমিশন ২৮টি প্রাতিষ্ঠানিক টিম গঠন করেছে।
দুদক চেয়ারম্যান আরো বলেন, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বিকাশের প্রধান অন্তরায় হচ্ছে দুর্নীতি। তিনি বলেন, তাত্ত্বিকভাবে অনেকে বলেন, অর্থনৈতিক বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে দুর্নীতিও বিকশিত হয়। কমিশন এই দুর্নীতিকেই নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে নিরলসভাবে কাজ করছে। দুর্নীতিপরায়ণদের আইনের আওতায় আনা অব্যাহত রয়েছে।