মৌলিক গল্প, তবুও...

(গতকালের পর)

 

দেশীয় চলচ্চিত্র বাজারে এক ধরনের মিশ্র অবস্থা চলছে। ভালো ছবি নির্মাণে সমস্যা বেশি। সিনেমা হল পাওয়া যায় না, ঠিকমতো প্রচারণা হয় না। তারপরও চলতি বছরে মৌলিক গল্পে নির্মিত হয় বেশ কয়েকটি সিনেমা। সিনেমাগুলো প্রশংসিত হলেও ব্যবসায়িকভাবে সফল হয়েছে খুব কমই। জয়া আহসানের ‘দেবী’ বুঝিয়ে দিলো সিনেমায় শুধু ভালো গল্প হলেই হিট হয় না। প্রচারণা একটি সিনেমার খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।

কতটা সফল স্বপ্নজাল?

গিয়াসউদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় ‘স্বপ্নজাল’ ছিল চলতি বছরের অন্যতম চমক। অনেকেই ছবিটিকে মনপুরার সঙ্গে তুলনা করছেন, কেউ বলছেন স্বপ্নজাল মূলত ‘মনপুরা ২’! কিন্তু চলচ্চিত্রটি নিয়ে বেশিরভাগ মানুষই ইতিবাচক মন্তব্য করেছে। মনপুরার তুমুল সফলতা সাঙ্গ করে নির্মাতা সেলিম যখন নতুন কলেবরে ফিরলেন বড়পর্দায় তখন অনেকেই ভেবেছিল হয়তো অসংখ্য সিনেমা হলে মুক্তি পাবে স্বপ্নজাল! কিন্তু প্রথম সপ্তাহে ২০টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল এটি। পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে হলের সংখ্যা বাড়লেও গণজোয়ার তুলতে পারেনি চলচ্চিত্রটি। অনেকেই প্রচারণাকে দায়ী করেছেন এর জন্য।

ভালো গল্প তবুও..

মুক্তির প্রথম সপ্তাহে ঢাকার মধ্যে কোনো হলই দখলে নিতে পারেনি সিনেমাটি। সাইমন-মাহী সিনেমাটি নিয়ে ব্যাপক আশাবাদী থাকলেও মন খারাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায় সিনেমাটির হল পাওয়া নিয়ে। দেশে মূলধারার বাণিজ্যিক ছবিতে আজকাল মৌলিক গল্প নিয়ে কাজ করার সাহস করেন খুব কম নির্মাতা। বড়পর্দায় বাংলাদেশকে এবং বিশেষ করে এ সময়ের বাংলাদেশকে খুব কমই খুঁজে পাওয়া যায়। জান্নাত এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ মৌলিক গল্পের সাহসী ও সময়োপযোগী একটি চলচ্চিত্র। কিন্তু প্রচারণার কারণে খুব বেশি মানুষের কারণে পৌঁছেনি চলচ্চিত্রটি। তার মধ্যে স্থানীয় মুসল্লিদের আপত্তির কারণে সাতক্ষীরার সঙ্গীতা সিনেমা হলে চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী বাতিল করে পুলিশ!

 

ব্যর্থতা প্রযোজকেরই!

দারুণ গল্পে নির্মিত ‘বেঙ্গলি বিউটি’। একটি সফল গল্পের আদলেই তার ভেতরে ছিল নানা শাখা-প্রশাখা, যা দর্শককে মনোযোগ দিয়ে ছবিটি দেখতে বাধ্য করেছে। কিন্তু খুব বেশি দর্শক প্রেক্ষাগৃহে দেখার সুযোগ পায়নি এই ছবিটি। ব্লকবাস্টার, স্টার সিনেপ্লেক্সে কয়েক সপ্তাহ চলেছিল ছবিটি। এই ছবিটি দর্শকদের কাছে পৌঁছে না দেওয়ার ব্যর্থতা প্রযোজকেরই! প্রিমিয়ার শো’তেও উপস্থিত হয়েছিল অল্পসংখ্যক ব্যক্তি। অন্যান্য ছবির প্রিমিয়ার শো’র মতো মিডিয়ার ক্যামেরার হুড়োহুড়িও ছিল না! প্রযোজকের প্রচারণা ও বিপণন পদ্ধতির সঙ্কটে মুখ থুবড়ে পড়ে চলচ্চিত্রটি!

দুর্বল প্রচারণায় নিম্নমানের গল্প

অভিনেতা আলমগীরের পরিচালনায় ৬ নম্বর ছবি। ঘোষণার পর থেকে মুক্তি পর্যন্ত আলোচিত ছিল এই সিনেমাটি। প্রথমে অভিনয় করার কথা ছিল প্রসেনজিত্ ও পাওলি দামের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আরিফিন শুভ ও কলকাতার ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে দেখা গিয়েছিল এক ফ্রেমে। পহেলা বৈশাখের মতো উত্সবে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাওয়ার পরও সাড়া জাগাতে পারেনি। এর মূলে ছিল নিম্নমানের গল্প! এছাড়া ছবি মুক্তির আগে প্রচার-প্রচারণা এতটাই দুর্বল ছিল যে, এ সময়ের দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহ পর্যন্ত টেনে নিয়ে আসার ব্যাপারে কোনো ধরনের আগ্রহই জন্ম দিতে সক্ষম হয়নি।