কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের রোকন সম্মেলনের প্রস্তুতি সভায় কমিটি গঠনের বিষয়ে বুধবার সন্ধ্যায় যখন দলীয় কার্যালয়ের চতুর্থ তলায় উত্তেজনা ও হট্টগোল চলছিল তখন কার্যালয়ের সামনে রাখা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহাবুবুর রহমানের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
পরে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাড়ি ভাঙচুরের ৩৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মাথায় টুপি ও মুখে মাস্কপরা এক ব্যক্তি লাঠি দিয়ে গাড়িটির চারপাশের গ্লাস ভেঙে ফেলছেন। এসময় একাধিক ব্যক্তি তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলেও ওই ব্যক্তি গাড়িটির সব গ্লাস ভেঙে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এদিকে, গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় বুধবার রাত থেকে ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা বর্তমানে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির কুমিল্লা মহানগরের আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সামদানির নাম বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণায় আসে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাড়ি ভাঙচুরের ভিডিও ভাইরাল হয়।
পরে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে (গোলাম মোহাম্মদ সামদানি) সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেয় দলটি।
এবি পার্টির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন রানা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, ‘কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে দল থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
চিঠিতে আরও বলা হয়, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য কুমিল্লা মহানগর শাখার ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নির্ধারণ করা হবে।
তবে গাড়ি ভাঙচুর ঘটনার সঙ্গে নিজের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে বৃহস্পতিবার রাতে গোলাম মোহাম্মদ সামদানি বলেন,
আমার বাবা মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া সাবেক জামায়াত নেতা। তিনি বুধবার সন্ধ্যায় স্ট্রোক করার পর নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করাই। সেখানে চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত ছিলাম। ওই হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরায়ও আমার ছবি আছে। জামায়াত নেতার গাড়ি ভাঙচুরের ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিটি আমি না।
তার ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাড়ি ভাঙচুরের সঙ্গে তার নাম আসায় দল বিতর্ক এড়াতে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দিয়েছে বলে দলের কেন্দ্র থেকে তাকে জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি সাংগঠনিকভাবে বিষয়টি দেখছি। পুলিশ তদন্ত করলেই জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পারবে।’
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান বলেন, গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার একটি ভিডিও নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে বলেন, ‘এখানে আমাদের দলে সাংগঠনিকভাবে কোনো বিরোধ নেই। তবে পদ-পদবী নিয়ে মতবিরোধ থাকতেই পারে। বুধবার সন্ধ্যায় সভা চলাকালে আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়, কিন্তু বাইরে দলের একজন নেতার গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়টি দুঃখজনক। আমরা সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেব।’